১৯৭৪ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে হাইতি। বিশ্বমঞ্চের এই আসরকে সামনে রেখে সম্প্রতি ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন হাইতির প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে। ঘোষিত এই স্কোয়াডটি বিশ্লেষণ করে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। দলের অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড়ের জন্ম হাইতির বাইরে, বিশেষ করে ফ্রান্সে। ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের ওপর ভর করেই হাইতি তাদের বিশ্বকাপ মিশন সাজিয়েছে।
Table of Contents
বহিরাগত জন্মসূত্র ও দ্বৈত নাগরিকত্ব
কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনের ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলটির খেলোয়াড় তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাত্র ১০ জন খেলোয়াড় হাইতিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। বাকি ১৬ জন খেলোয়াড়ের জন্ম বিশ্বের অন্যান্য দেশে। ফুটবল বিষয়ক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এই ১৬ জনের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ১২ জনেরই জন্ম ফ্রান্সে। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুজন, কানাডায় একজন এবং সুইজারল্যান্ডে একজন জন্মগ্রহণ করেছেন। মূলত নিজেদের বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির বংশোদ্ভূত সূত্রে তাঁরা হাইতির নাগরিকত্ব লাভ করেছেন এবং দেশটির জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রবাসী খেলোয়াড়দের প্রায় সবারই আন্তর্জাতিক ফুটবলে হাইতির হয়ে আগেই অভিষেক ঘটেছে।
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্লাবের অংশগ্রহণ
হাইতির এই বিশ্বকাপ দলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো খেলোয়াড়দের ক্লাব ফুটবলের অবস্থান। দলের ২৬ জন ফুটবলারের মধ্যে ২৫ জনই হাইতির বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লাবে পেশাদার ফুটবল খেলেন। ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগালসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে এদের নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে। বিপরীতে, হাইতির ঘরোয়া লিগে খেলেন এমন ফুটবলার রয়েছেন মাত্র একজন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ মিডফিল্ডারের নাম উডনস্কি পিয়েরে, যিনি হাইতির স্থানীয় ক্লাব ‘ভায়োলেট এসি’-র হয়ে মাঠ মাতান।
ঘোষিত এই স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত ক্লাবের তারকা ফুটবলার স্থান পেয়েছেন। হাইতি দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের অন্যতম হলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সান্দারল্যান্ডে খেলা ফরোয়ার্ড উইলসন ইসিদোর। এ ছাড়া রয়েছেন ইংলিশ ক্লাব উলভসের মিডফিল্ডার জঁ-রিকনার বেলেগার্ড এবং সুইজারল্যান্ডের ক্লাব ইয়ং বয়েজে খেলা ডিফেন্ডার কিটো থার্মনসি।
খেলোয়াড়দের জন্মভূমির পরিসংখ্যান
নিচে হাইতির বিশ্বকাপ দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থানের একটি পরিসংখ্যানগত বিবরণ টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| জন্মস্থান (দেশ) | খেলোয়াড়ের সংখ্যা | শতকরা হার (%) |
| হাইতি (স্বদেশ) | ১০ | ৩৮.৪৬% |
| ফ্রান্স | ১২ | ৪৬.১৫% |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | ০২ | ৭.৬৯% |
| কানাডা | ০১ | ৩.৮৫% |
| সুইজারল্যান্ড | ০১ | ৩.৮৫% |
| মোট খেলোয়াড় | ২৬ | ১০০% |
বিশ্বকাপের গ্রুপ ও সময়সূচি
আসন্ন বিশ্বকাপে হাইতি দল ‘সি’ গ্রুপে অবস্থান করছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ড। আগামী ১৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে হাইতি তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
এক নজরে হাইতির পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ স্কোয়াড
কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে কর্তৃক ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলটিকে পজিশন অনুযায়ী নিচে সাজানো হলো:
গোলরক্ষক: জনি প্লাসিড, আলেকজান্ডার পিয়ের ও জসুয়া দুভার্জার।
ডিফেন্ডার: কার্লেন্স আরকুস, উইলগেনস পগেইঁ, ডিউক ল্যাক্রোইক্স, মার্টিন এক্সপেরিয়েন্স, জঁ-কেভিন দুভার্ন, রিকার্দো আদে, হানেস ডেলক্রোয়ার্স ও কিটো থার্মনসি।
মিডফিল্ডার: লেভারটন পিয়ের, কার্ল-ফ্রেড সেন্টে, ড্যানলি জিন-জ্যাকস, জঁ-রিকনার বেলেগার্ড, উডেন্সকি পিয়ের ও ডমিনিক সাইমন।
ফরোয়ার্ড: লুইসিয়াস ডিডসন, রুবেন প্রভিডেন্স, জসুয়া ক্যাসিমির, ডেরিক এতিয়েন, উইলসন ইসিদোর, ডুকেন্স নাজোন, ফ্রান্টজডি পিয়েরো, ইয়াসিন ফরচুন ও লেনি জোসেফ।
