অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবিতে রিট

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিগত ১৮ মাসের শাসন আমলের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপর বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (১৭ মে, ২০২৬) এই সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চ এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) দিন ধার্য করেছেন।

আদালতের প্রাথমিক শুনানি ও আদেশ প্রদানের দিন নির্ধারণ

আজ রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত সুনির্দিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিটকারী পক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনি যুক্তি ও বক্তব্য শোনার পর আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের জন্য আগামী ২১ মে, বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান এবং স্বয়ং রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সরকারের আইনি অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রিট মামলার প্রধান পক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের বিবরণ

এই আইনি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রধান ব্যক্তি এবং তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দায়িত্বের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিক সংখ্যাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামআইনি প্রক্রিয়া বা মামলায় প্রধান ভূমিকা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসপ্রধান উপদেষ্টা (যাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রিট)।
বিচারপতি আহমেদ সোহেলশুনানিতে অংশগ্রহণকারী হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি।
বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারশুনানিতে অংশগ্রহণকারী হাইকোর্ট বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি।
আইনজীবী এম কে রহমানরিট আবেদনকারীদের পক্ষে প্রধান সওয়ালকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
আইনজীবী মহসিন রশীদমামলার মূল রিটকারী এবং আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী।
মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলরাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনি কর্মকর্তা বা সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল।

রিটকারীদের প্রধান বক্তব্য ও তদন্তের আইনি ভিত্তি

শুনানি শেষে আইনজীবী এম কে রহমান গণমাধ্যমকে এই রিট আবেদনের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশের সর্বক্ষেত্রে, বিশেষ করে জাতীয় অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাতসহ রাষ্ট্রীয় প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে একটি চরম বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আইনি কৌশল হিসেবে তারা দেশের প্রচলিত ‘তদন্ত কমিশন আইন’ (কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট) অনুযায়ী একটি শক্তিশালী এবং স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবী এম কে রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই তদন্ত কমিশন গঠনের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে যেন কোনো অনির্বাচিত বা অসাংবিধানিক শক্তি এসে জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত কোনো গণতান্ত্রিক সরকারকে বেআইনিভাবে উৎখাত বা প্রতিস্থাপন করতে না পারে, তার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং সরকারের প্রধান আইনি কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতিতেই আগামী বৃহস্পতিবার আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

অন্যতম রিটকারী ও আইনজীবী মহসিন রশীদ এই প্রসঙ্গে জানান যে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে যা কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার সবকিছুর একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে বা কোন প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বর্তমান প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগ।

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী বা অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানিয়েছেন যে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য জানার জন্য তাঁর কিছু সময়ের প্রয়োজন। রিটকারী পক্ষও সম্মতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ যেন উপযুক্ত নির্দেশনা নিয়েই আগামী বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হয়, যাতে এই জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে একটি যুগান্তকারী এবং সুষ্ঠু আইনি আদেশ লাভ করা সম্ভব হয়।