অবৈধ জ্বালানি বিক্রিতে জরিমানা অভিযান

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে নির্ধারিত সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং লাইসেন্স ছাড়া দাহ্য জ্বালানি মজুদ ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল জব্দ করে নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানটি বাস্তবায়ন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটও অভিযানে সহযোগিতা করে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া উত্তর চৌমুহনী এলাকায় অবস্থিত হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করে আসছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বৈধ জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতিপত্রও ছিল না। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে নির্দেশ দেওয়া হয়, জব্দকৃত জ্বালানি সর্বোচ্চ দুই লিটার করে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

অভিযানের সময় আরও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানটি গোপন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করছিল এবং তদন্তকারী দলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার জানান, দাহ্য জ্বালানি অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বাজার ব্যবস্থাপনাকেই ব্যাহত করে না, বরং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ায়। তাই নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এসব অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কালোবাজারি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি পেতে পারেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য নিচে সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

প্রতিষ্ঠানঅভিযোগজরিমানাপ্রযোজ্য আইন
হোসেন এন্টারপ্রাইজঅতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা৫০,০০০ টাকাভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯
অপর একটি প্রতিষ্ঠানতদন্তে অসহযোগিতা ও মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অবৈধ মজুদ১০,০০০ টাকাপেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে।