২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো যখন তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, তখন বড় দলগুলোর শিবিরে হানা দিয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত চোট। ফুটবল বিশ্বে বিশ্বকাপ জয় মানেই অনন্য এক কীর্তি, আর ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি এক আবেগের নাম। তবে এবারের আসরে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবলারদের চোট নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে সেলেসাওরা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে ব্রাজিলই চোটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Table of Contents
ব্রাজিলের স্কোয়াডে বড় ধাক্কা
ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা এদের মিলিতাও এবং রদ্রিগো চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়া ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের শক্তি কমিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাও-এর অনুপস্থিতিকে। চেলসির এই খেলোয়াড় আনচেলত্তির অধীনে ৭ ম্যাচে ৫টি গোল এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করে দলের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে প্রাথমিক স্কোয়াডেই তাঁর জায়গা হয়নি।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে থাকা নেইমার-এর ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা কাটেনি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এবারও তাঁর চোটপ্রবণতা ও শারীরিক অবস্থা কোচ আনচেলত্তির জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শীর্ষ দলগুলোর চোটের তালিকা ও বর্তমান অবস্থা
ব্রাজিল ছাড়াও স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আর্জেন্টিনার মতো শীর্ষ দলগুলো চোটের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। নিচে প্রধান দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোটের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| দলের নাম | অনুপস্থিত বা অনিশ্চিত খেলোয়াড় | চোটের ধরণ/অবস্থা | প্রভাবের মাত্রা |
| ব্রাজিল | এস্তেভাও, রদ্রিগো, এদের মিলিতাও | হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোট | অত্যন্ত প্রবল |
| স্পেন | সামু ওমোরোদিয়ন, নিকো উইলিয়ামস*, লামিনে ইয়ামাল* | দীর্ঘমেয়াদী চোট (*ফিরতে পারেন) | মাঝারি |
| ফ্রান্স | হুগো একিতিকে | পেশির চোট | সামান্য (স্কোয়াড গভীরতা বেশি) |
| জার্মানি | সার্জ নাবরি | শারীরিক অসুস্থতা/চোট | মাঝারি |
| আর্জেন্টিনা | হুয়ান ফয়েথ, ফ্রাঙ্কো পানিচেল্লি | পুরনো চোটের পুনরাবৃত্তি | সামান্য |
অন্যান্য পরাশক্তির বর্তমান পরিস্থিতি
স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর তরুণ ফরোয়ার্ড সামু ওমোরোদিয়নকে এই বিশ্বকাপে পাচ্ছেন না, যা স্প্যানিশ শিবিরের জন্য বড় ক্ষতি। যদিও নিকো উইলিয়ামস এবং লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে আশা রয়েছে যে তারা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
অন্যদিকে, বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স দল হুগো একিতিকেকে হারিয়েছে। তবে ফরাসি দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিকল্প থাকায় তারা এই ধাক্কা সামলে নিতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির আক্রমণভাগের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সার্জ নাবরি না থাকায় দলটির গতি কিছুটা কমতে পারে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রক্ষণভাগের হুয়ান ফয়েথ এবং ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্কো পানিচেল্লি-এর অনুপস্থিতি। ফয়েথ গত ২০২২ বিশ্বকাপেও চোটের কারণে বঞ্চিত হয়েছিলেন, এবারও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে তাঁকে।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণ
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি বড় দলেই কম-বেশি চোটের সমস্যা রয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের গুরুত্ব এবং দলের কৌশলে তাঁদের প্রভাব বিবেচনা করলে ব্রাজিলের ক্ষতিই সবচেয়ে অপূরণীয়। একাধিক মূল খেলোয়াড় এবং প্রতিশ্রুতিশীল তারকাদের একসঙ্গে হারানো ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের মিশনে চোটই এখন ব্রাজিলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
