জাপানের পি অ্যান্ড সি বাজার ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই মে ২০২৬, ১২:২৯ এএম
জাপানের প্রপার্টি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি (P&C) বীমা বাজার ২০২৫ সালের ৭০.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৮০.০৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে বাজারটির যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (CAGR) ধরা হয়েছে ২.২২ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মরডর ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বীমা খাতে মূল্য নির্ধারণ ও কাভারেজ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের নোটো পেনিনসুলা ভূমিকম্প এবং বিভিন্ন তীব্র ঝড়ের মতো ঘটনা বাজারের ঝুঁকি মূল্যায়ন কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। এসব ঘটনার পর বীমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রিমিয়াম ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিতে সমন্বয় করছে।
মরডর ইন্টেলিজেন্স আরও জানায়, জাপানের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এজেন্সি (FSA) ২০২৬ সালের মার্চে নতুন ইকোনমিক ভ্যালু-ভিত্তিক সলভেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে। এই কাঠামোর কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, যা শিল্পের নিয়ন্ত্রক পরিবেশকে আরও জোরদার করেছে।
বাজারের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ২০২৫ সালে অটোমোবাইল বীমা সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে রেখেছে, যা মোট বাজারের ৫০.৩৮ শতাংশ। এই খাতে যানবাহন বীমা এখনো প্রধান রাজস্ব উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সাইবার বীমা খাতকে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সেগমেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই খাতে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭.৩৮ শতাংশ। ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা বৃদ্ধির ফলে সাইবার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাপানে টেলিম্যাটিকস-ভিত্তিক মোটর বীমা প্রোগ্রাম ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব প্রোগ্রামে চালকের আচরণ ও যানবাহনের তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকি নির্ধারণ এবং প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়, যা দাবি ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল করছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্পত্তি বীমা খাতেও প্রিমিয়াম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের নোটো পেনিনসুলা ভূমিকম্পে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯৮টি পলিসির বিপরীতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ০.৬৭ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে হিয়োগো অঞ্চলের বড় শিলাবৃষ্টিতে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২টি পলিসিতে ০.৮৭ বিলিয়ন ডলার দাবি তৈরি হয়। এছাড়া টাইফুন শানশানের কারণে আরও ০.৩৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি যুক্ত হয়।
এই ধারাবাহিক ক্ষতির পর বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তি, বিশেষ করে পুরোনো ভবনগুলোর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটিং মানদণ্ড কঠোর করেছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণে উৎসাহ দিতে প্রিমিয়ামে ছাড় দেওয়ার মতো ঝুঁকি প্রশমন উদ্যোগও বাড়ানো হয়েছে।
রিইনশিওরেন্স ব্যবস্থায় প্রতি ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ দায়সীমা ৭৬.৮২ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমার বাইরে ক্ষতির প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ সরকার বহন করে থাকে, যা বড় দুর্যোগের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া জাপানে প্যারামেট্রিক ভূমিকম্প বীমা পণ্য চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট ভূমিকম্প তীব্রতার ভিত্তিতে পূর্বনির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হবে এবং এতে কোনো ডিডাক্টিবল থাকবে না।
মন্তব্য