চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিনব কায়দায় গয়না লুটের চেষ্টাকালে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার পৌর সদরের বিবির হাট বাজারের ‘নিউ টুনটু জুয়েলার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত নারীর নাম সালমা আকতার। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ঘটনার বিবরণ
বেলা ২টার দিকে বোরকা পরিহিত সালমা আকতার ক্রেতা সেজে নিউ টুনটু জুয়েলার্সে প্রবেশ করেন। তিনি কর্মচারীদের কাছে সোনার হার ও চুড়ি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কর্মচারীরা সরল বিশ্বাসে শোকেস খুলে বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না তাঁর সামনে উপস্থাপন করেন। গয়না দেখার একপর্যায়ে ওই নারী হঠাৎ তাঁর বোরকার পকেট থেকে মরিচের গুঁড়া বের করে উপস্থিত তিন কর্মচারীর চোখেমুখে ছিটিয়ে দেন।
মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় কর্মচারীরা সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লে সেই সুযোগে ওই নারী শোকেসে থাকা প্রায় সাড়ে ৩ ভরি ওজনের গয়না ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দোকানের কর্মচারীরা সাহসিকতার পরিচয় দেন। তাঁরা ওই নারীকে জাপটে ধরেন এবং দোকান থেকে বের হতে বাধা প্রদান করেন। ওই নারী বারবার ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পূর্ববর্তী অপরাধ
দোকানের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারী পরিকল্পিতভাবে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে সোনা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই নারী একজন পেশাদার অপরাধী। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম খান জানান, গত সোমবারও (১১ মে) উপজেলার অন্য একটি সোনার দোকান থেকে চুরির অভিযোগ ছিল এই নারীর বিরুদ্ধে। অর্থাৎ টানা দুই দিন তিনি একই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
| ঘটনার স্থান | নিউ টুনটু জুয়েলার্স, বিবির হাট, ফটিকছড়ি |
| তারিখ ও সময় | মঙ্গলবার দুপুর ২টা (১২ মে, ২০২৬) |
| অভিযুক্তের নাম | সালমা আকতার |
| লুটের চেষ্টা করা স্বর্ণের পরিমাণ | প্রায় ৩.৫ ভরি |
| ব্যবহৃত কৌশল | মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ ও ক্রেতা ছদ্মবেশ |
| বর্তমান অবস্থা | পুলিশি হেফাজতে ও মামলা প্রক্রিয়াধীন |
মালিক ও প্রশাসনের বক্তব্য
দোকান মালিক সুমন ধর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাড়ে ৩ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই ওই নারী দোকানে ঢুকেছিলেন। কর্মচারীদের সাহসিকতায় বড় ধরনের লোকসান থেকে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা পেয়েছে। তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নারীকে বর্তমানে থানাহাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার পর বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং এই চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।
