ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় জাল টাকার নোট ব্যবহার করে কেনাকাটার সময় মেহেদী হাসান (৩৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দাধার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে এক হাজার টাকার দুটি জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক মেহেদী হাসান ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া থানার বাঁশবুনিয়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে মেহেদী হাসান তার সহপাঠী রনিকে সঙ্গে নিয়ে আমজাদহাট এলাকায় অবস্থান করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তিনি আমজাদহাট কাঁচাবাজার সড়কে অবস্থিত ‘মাজারুল উল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে তিনি একটি টর্চলাইট ক্রয় করেন এবং এর মূল্য পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার একটি নোট প্রদান করেন।
দোকানদারের কাছে নোটটি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেহেদী হাসানকে আটক করে।
পুলিশ উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে আরও একটি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করে। ফলে মোট দুটি জাল নোট জব্দ করা হয়।
স্থানীয় এক ব্যক্তির বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকানে একটি পুরোনো সিরিজের এক হাজার টাকার নোট এবং একটি নতুন ছাপানো এক হাজার টাকার নোট ব্যবহার করেন। যাচাই-বাছাই শেষে উভয় নোটই জাল হিসেবে শনাক্ত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান নিজেকে পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য হিসেবে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় জাল নোট সংক্রান্ত তিনটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাল নোট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় ছোটখাটো কেনাকাটার মাধ্যমে জাল নোট ছড়ানোর চেষ্টা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য