খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ২:৭ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরি-র মধ্যে আজ এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটারকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। মূলত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উৎসাহ যোগাতে বিসিবির বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি এই বিশেষ পুরস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
Table of Contents
সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফর এবং চলমান পাকিস্তান সিরিজে ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিসিবি মোটরসাইকেল উপহার দেওয়ার একটি নতুন রীতি চালু করেছে। তবে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরস্কারের মান আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত একদিনের আন্তর্জাতিক এবং কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক সিরিজ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে এই চেরি গাড়িটি প্রদান করা হবে।
বিসিবি সভাপতির মতে, গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে বিসিবির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় যে অবনতি ঘটেছিল, তা পুনরুদ্ধার করা বর্তমান কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। চেরির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের বিসিবির সাথে যুক্ত হওয়া সেই ভাবমূর্তি উন্নয়নেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।
| বিষয় | বিবরণ |
| পুরস্কারের ধরণ | বিলাসবহুল চেরি গাড়ি |
| নির্ধারিত সিরিজ | বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া সিরিজ (২০২৬) |
| অন্তর্ভুক্ত ম্যাচ | একদিনের আন্তর্জাতিক এবং কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক |
| প্রাপক যোগ্যতা | সিরিজের সেরা পারফরম্যান্সকারী বাংলাদেশি ক্রিকেটার |
| উদ্যোক্তা সংস্থা | বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (অ্যাড-হক কমিটি) |
| চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান | বিসিবি কার্যালয়, মিরপুর |
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে গাড়ি উপহার দেওয়ার ঘটনা বিরল। বিসিবি সভাপতি স্মরণ করেন যে, প্রায় ২০ বছর আগে বাংলাদেশ যখন প্রথম টেস্ট জয় করেছিল, তখন নাফিস ইকবালকে গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর পুনরায় এই ধরণের বড় অংকের উপহারের প্রথা চালুর মাধ্যমে ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে বলে বোর্ড আশা করছে।
তামিম ইকবাল আরও উল্লেখ করেন যে, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিনিয়োগ কেবল কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। তাঁর মতে, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে স্পন্সরদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা এবং তাদের ক্রিকেটে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা বোর্ডের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি এই বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সচেষ্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্রিকেটে বিনিয়োগে পুনরায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত সিরিজগুলোতে মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এবার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি বিসিবির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠের পারফরম্যান্সে এই ধরণের আকর্ষণীয় পুরস্কার খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি অনুযায়ী দল যেন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারে, সে বিষয়েও বোর্ড কাজ করছে। এই ধরণের বড় স্পন্সরশিপ চুক্তি ভবিষ্যতে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিসিবি এবং চেরির এই যৌথ উদ্যোগ কেবল একটি সিরিজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় সিরিজেও এমন উদ্ভাবনী পুরস্কারের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। চেরি ব্র্যান্ডকে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত করায় বিসিবি সভাপতি তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মন্তব্য