খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই মার্চ ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) এবং ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড (আইসিডিটি) শুক্রবার মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা-তে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধারণা বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Table of Contents
আইসিডিটি, যা ১৯৮৪ সালে ইসলামিক কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ওআইসি) এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ওআইসিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ, আর আইসিডিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং আইসিডিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সমঝোতা স্মারকের আগে আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অংশীদার দেশসমূহকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে:
আইসিডিটির মহাপরিচালক এই সমঝোতাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বাংলাদেশের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ পাইলট দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য/বিস্তারিত |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান | বিএফটিআই (বাংলাদেশ), আইসিডিটি (মরক্কো) |
| সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তারিখ | শুক্রবার, ২০২৬ |
| স্বাক্ষরকারী প্রতিনিধি | এমজেএইচ জাবেদ (বাংলাদেশ), লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই (আইসিডিটি) |
| প্রধান লক্ষ্য | বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন |
| কার্যক্রম | গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, প্রদর্শনী, কর্মশালা, ব্র্যান্ডিং |
| আঞ্চলিক প্রভাব | ঢাকা আঞ্চলিক হাব হিসেবে বিবেচনা, বাংলাদেশকে আইসিডিটির পাইলট দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত |
| চুক্তির মেয়াদ | প্রাথমিকভাবে দুই বছর, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণযোগ্য |
এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা, অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য