বঙ্গবিভূষণ সম্মানিত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ও গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর নাম এই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মাসখানেক ধরেই তীব্র আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে, ইমনের কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ানের গান ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’, যা প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গানটির প্রভাব এবং ইমনের বঙ্গবিভূষণ সম্মান লাভের পর এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছিল।
তবে ১৭ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, ইমনের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই বিষয়ে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ইমন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া সরাসরি এবং স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন,
“মিডিয়া আমাকে নিয়ে যেভাবে হাইপ তৈরি করেছে, তা মেন্টাল ট্রমা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আমি কখনো কিছুই বলিনি। আমি শিল্পী। আমার কাজ শুধুই গান। আর আমি সেটাই করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার গান পছন্দ করেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা প্রতিবার ভোটে দাঁড়াব।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে ইমন একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন,
“বিগত কয়েক মাস ধরে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করানো হয়েছে—উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়েছেন। এবার আমার বিনীত অনুরোধ—প্লিজ, আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।”
এই পরিস্থিতি এবং সামাজিক মিডিয়ায় জল্পনার ভিত্তিতে ইমনের প্রার্থীতা, সম্মান ও প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গায়িকা | ইমন চক্রবর্তী |
| জাতীয় সম্মান | বঙ্গবিভূষণ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত |
| প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা | গণমাধ্যমে আলোচিত, তবে প্রার্থী হয়নি |
| জনপ্রিয় গান | ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ |
| সামাজিক মিডিয়া প্রতিক্রিয়া | নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করানো নিয়ে স্ট্যাটাস প্রকাশ |
| মন্তব্য | “আমি শিল্পী, আমার কাজ শুধুই গান” |
গণমাধ্যম ও নেটিজেনদের মধ্যকার এই তীব্র জল্পনা ইমনের মনোভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে। তিনি রাজনীতির অংশগ্রহণে আগ্রহী নন এবং গানের কাজে মনোনিবেশ করতে চান। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তার শিল্পী ও নাগরিক পরিচয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি তার অঙ্গীকার কতটা দৃঢ়।
