ইসলামে সওয়াব অর্জনের জন্য বিশেষ দোয়া ও কৃত্যের ওপর হাদিসে নিয়মিত নির্দেশনা আছে। উম্মুল মোমিনীন জোয়ায়রিয়াহ (রা.)-কে রাসুল মুহাম্মদ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শেখান, যা নিয়মিত পাঠ করলে অনন্ত সওয়াবের ধারাবাহিক সঞ্চয় হয় এবং হৃদয়ে শান্তি আসে।
দোয়াটি হলো:
আরবি:
سُبْحَانَ ٱللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ:
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খলকিহি, ওয়া রিজা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।
অর্থ:
“আমি আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, তাঁর সৃষ্টিসংখ্যা অনুযায়ী, তাঁর মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজন অনুযায়ী এবং তাঁর কালামের কালির পরিমাণ অনুযায়ী।”
জোয়ায়রিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুল (সা.) সকালে ঘরের বাইরে গেলেন। তিনি জায়নামাজে বসে দীর্ঘ সময় অজিফা পাঠ করছিলেন। দিনের এক-চতুর্থাংশ কেটে গেলে, রাসুল (সা.) ঘরে ফেরেন। তখনও তিনি জায়নামাজে অজিফা পাঠে মগ্ন ছিলেন।
রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “আমি যাওয়ার সময় তোমাকে যেভাবে দেখেছি, কি এখনো সেই অবস্থায় আছ?” জোয়ায়রিয়াহ (রা.) উত্তরে বলেন, “হ্যাঁ।” তখন রাসুল (সা.) বলেন, “যে চারটি কালিমা আমি তোমার কাছে পাঠ করেছি, তা যদি তুমি সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঠ করছ, প্রতিটি পাঠে অনন্ত সওয়াব লেখা হবে।”
দোয়ার নিয়মিত পাঠ শুধুমাত্র মুখস্থ নয়, বরং এটি হৃদয়ের খুশি ও মননশীল ভক্তি বৃদ্ধি করে। ইসলামিক শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রতিদিনের নামাজের পর, জুমার আগে বা নির্দিষ্ট সময়ে এই দোয়া পাঠ করলে নেক কাজ ও সওয়াবের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
নিচে দোয়ার মূল বিষয় ও সুফল সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| দোয়ার নাম | সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা… |
| পাঠের সময় | সকাল থেকে দিনের বিভিন্ন সময়, নামাজের পর বা অবসরে |
| উদ্দেশ্য | আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা, নেক কাজের সওয়াব অর্জন |
| সুফল | প্রতিটি পাঠে অনবরত সওয়াব, হৃদয়ের প্রশান্তি ও ভক্তি বৃদ্ধি |
| উদাহরণ | জোয়ায়রিয়াহ (রা.) দেখেছেন দীর্ঘ অজিফা পাঠেও সওয়াব বৃদ্ধি |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত দোয়া পাঠ ব্যক্তির আত্মিক জীবনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মনোবল ও নৈতিকতা শক্তিশালী করে এবং ঈমানকে দৃঢ় রাখে।
সারসংক্ষেপে, এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে প্রতিদিনের নেক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব। যারা নিয়মিত এই দোয়ার সঙ্গে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত সম্পৃক্ত রাখেন, তাদের জন্য অনন্ত সওয়াব ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জন নিশ্চিত।
