খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই মার্চ ২০২৬, ৯:১১ পিএম

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও জটিল আইনি প্রক্রিয়াগুলোর একটি—ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা বহুল আলোচিত ‘১১৫ অভিযোগ’—এখনও নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় ঝুলে আছে। তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই মামলার চূড়ান্ত রায় না আসায় কৌতূহল, অনিশ্চয়তা এবং বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। কেবল একটি ক্লাব নয়, বরং পুরো ইংলিশ ফুটবলের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে এই মামলার সঙ্গে।
Table of Contents
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল, প্রকৃত আয় গোপন করা, স্পনসরশিপ আয়ের তথ্য বিকৃত করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা। অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালকে ঘিরে।
যদিও ‘১১৫ অভিযোগ’ নামটি বেশি পরিচিত, বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকৃত নিয়মভঙ্গের সংখ্যা ১৩০-এর কাছাকাছি হতে পারে। কারণ, কিছু অভিযোগ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত বা ওভারল্যাপিং। এ ছাড়া তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তির পরিধি হতে পারে নজিরবিহীন। জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কাটা, লিগ শিরোপা বাতিল, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য ক্লাবগুলো ক্ষতিপূরণ দাবি করলে সেটিও বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
২০১৮ সালে ‘ফুটবল লিকস’ নামে পরিচিত তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে এই তদন্তের সূচনা হয়। পরে ২০২১ সালে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর তদন্ত জোরদার হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
| ধাপ | সময়কাল | বিবরণ |
|---|---|---|
| তদন্ত শুরু | ডিসেম্বর ২০১৮ | ফুটবল লিকস প্রকাশ |
| প্রকাশ্য অগ্রগতি | মার্চ ২০২১ | আদালতের অনুমতি |
| শুনানি শুরু | সেপ্টেম্বর ২০২৪ | লন্ডনে কার্যক্রম শুরু |
| শুনানি শেষ | ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রাথমিক শুনানি সমাপ্ত |
| প্রত্যাশিত রায় | ২০২৫ (প্রত্যাশিত) | এখনও প্রকাশ হয়নি |
এই মামলার বিলম্বের প্রধান কারণ এর জটিলতা। প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ। শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা প্রমাণ করা আরও কঠিন।
রায় দিচ্ছে একটি স্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল, যাদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। তারা পূর্ণকালীনভাবে এ মামলায় কাজ করছেন না—অন্য দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বাড়ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রায়ের সঙ্গে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এই ব্যাখ্যাই ভবিষ্যতের আপিলের ভিত্তি হবে। ফলে সিদ্ধান্তে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না।
গোপনে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি প্রিমিয়ার লিগ ও ম্যানচেস্টার সিটি পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে আংশিক দোষ স্বীকার, আর্থিক জরিমানা এবং সীমিত পয়েন্ট কর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে এর জন্য লিগের সব সদস্য ক্লাবের সম্মতি প্রয়োজন।
রায় যাই হোক, আপিলের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে এই মামলা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে প্রিমিয়ার লিগের ভাবমূর্তি যেমন চাপে পড়বে, তেমনি ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকবে।
সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি আইনি মামলা নয়—বরং আধুনিক ফুটবলের আর্থিক কাঠামো ও নৈতিকতার বড় পরীক্ষা।
মন্তব্য