পালিয়ে বিয়ে, ধাওয়ায় যুবক ছাদ থেকে পড়ে নিহত

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক প্রতিক্রিয়ার সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত শহিদুল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার দক্ষিণ মাঝপাড়া গ্রামের চান মিয়ার ছেলে। তিনি শহরে বড় ভাই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কাঁঠালবাগান এলাকায় বসবাস করছিলেন।

কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শহিদুলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ১৪ বছর বয়সী হাসির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১১ ফেব্রুয়ারি তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে এসে কলাবাগানে শহিদুলের ভাইয়ের বাসায় উঠেন। উভয়ের সম্মতিতে শহিদুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম তাদের বিয়ের আয়োজন করেন।

বিয়ের খবর পেয়ে কিশোরীর পরিবার বাসার নিচে অবস্থান নেন। শহিদুল বাসার নিচে নামলে মেয়ের পরিবারের উপস্থিতি দেখতে পান। এ সময় শহিদুলের ‘খালু শ্বশুর’ তার পিছু নিলে তিনি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যান। পরে পাশের ভবনে লাফ দেওয়ার সময় অসাবধানতাজনিতভাবে নিচে পড়ে মৃত্যু হয়।

পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এসআই আরিফুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, শহিদুল ও হাসির সম্পর্ক মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম ও ঘটনার তথ্য

বিষয়বিস্তারিত
নিহতের নামশহিদুল ইসলাম
বয়স২৫ বছর
জন্মস্থানধোবাউড়া, ময়মনসিংহ জেলা
বসবাসকাঁঠালবাগান, কলাবাগান, ঢাকা
পরিবারের সদস্যবড় ভাই: রফিকুল ইসলাম
সম্পর্কিত কিশোরীহাসি, ১৪ বছর, নারায়ণগঞ্জ
পালানোর তারিখ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিয়ের তারিখ১১–১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মৃত্যুর তারিখ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মৃত্যুর কারণভবন থেকে পড়ে অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনা
আইনি ব্যবস্থামেয়ের পরিবারকে মুচলেকা দিয়ে হস্তান্তর

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং হতাশা সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সামাজিক ও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কও উত্থাপন করেছে, বিশেষত কম বয়সী কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং পালিয়ে বিয়ে সংক্রান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে।