খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৩১ পিএম

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় উদঘাটন করা হয়েছে যে, খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বা পিফাস (PFAS) নামক রাসায়নিকের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস, সিডনির গবেষক দল দেখিয়েছে, যখন একটি প্রাণী অন্য প্রাণীকে খায়, তখন পিফাসের ঘনত্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি “বায়োম্যাগনিফিকেশন” নামে পরিচিত।
পিফাস এমন এক ধরনের রাসায়নিক, যা রান্নার পাত্র, খাবারের প্যাকেজিং, ফায়ার-রেসিস্ট্যান্ট ফোম এবং অন্যান্য দৈনন্দিন উপকরণে ব্যবহৃত হয়। পরিবেশে এর উপস্থিতি প্রাথমিকভাবে শিল্প বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রের পানিতে মিশে যায়। এরপর ছোট প্রাণী যেমন শেওলা বা প্ল্যাঙ্কটন তা শোষণ করে, যা পরবর্তী খাদ্যশৃঙ্খলে সরাসরি প্রবেশ করে।
গবেষক লোরেঞ্জো রিকলফি বলেছেন, “খাদ্যশৃঙ্খলের উচ্চ স্তরে থাকা প্রাণীদের মধ্যে পিফাসের ঘনত্ব বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি যেখানে মাটি বা পানির দূষণ প্রাথমিকভাবে নগণ্য।”
খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে পিফাসের বৃদ্ধি নিম্নলিখিত টেবিলে সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| খাদ্যশৃঙ্খল স্তর | উদাহরণ প্রাণী | পিফাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি (গড়ে) |
|---|---|---|
| প্রাথমিক প্রযোজক | শেওলা, প্ল্যাঙ্কটন | ১× (মূল মাত্রা) |
| প্রথম স্তরের শিকারী | ছোট মাছ | ২× |
| দ্বিতীয় স্তরের শিকারী | বড় মাছ, সামুদ্রিক পাখি | ৪× |
| শীর্ষ শিকারী | তিমি, শার্ক, মানুষ | ৮× বা তার বেশি |
গবেষকরা ৬৪টি পৃথক আন্তর্জাতিক গবেষণার বিশ্লেষণ করেছেন, যার মধ্যে ১১৯টি ভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল এবং ৭২ ধরনের পিফাস যৌগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জলজ ও স্থলজ বাস্তুসংস্থানে একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
রিকলফি সতর্ক করেছেন যে, মানুষও খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা প্রাণী খেয়ে এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, “কেবল রাসায়নিকের বিষক্রিয়া পরীক্ষা করলেই হবে না, খাদ্যশৃঙ্খলে এর বায়োম্যাগনিফিকেশনও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।”
বিশ্বজুড়ে পরিবেশবিদরা এই রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছেন, যাতে মানুষের স্বাস্থ্য ও প্রাণিজগতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
মন্তব্য