মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয় দাবি করেছে। মঙ্গলবার দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য এএফপি-কে জানিয়েছেন। তবে তিনি ফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত রাখতে এই নির্বাচন “সাজানো” বলে অভিহিত হয়েছে। ১৯৬২ সাল থেকে প্রায় পুরো সময়ই দেশটি সামরিক শাসনের আওতায় থেকেছে। ২০১১ সালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ২০২১ সালে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে দেশের গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চি আটক হন এবং দেশটি আবারও সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত হয়।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার চলতি নির্বাচনের তিন ধাপের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করেছে। এই ধাপে ইউএসডিপি দাবি করছে, ১০০টি আসনের মধ্যে তারা ৮৭টি জয়ী হয়েছে। প্রথম ধাপের ফলাফলের সঙ্গে যোগ করলে দলের মোট আসনসংখ্যা ১৭৬ দাঁড়ায়, যা নির্বাচিত ৩৩০টি আসনের অর্ধেকের কিছু বেশি। তৃতীয় ধাপের ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
মিয়ানমারের নিম্নকক্ষে মোট ৪৪০টি আসন রয়েছে। তবে সামরিক সংবিধান অনুযায়ী ১১০টি আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউএসডিপির নেতৃত্বে অনেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা থাকায় দলটি সেনাবাহিনীর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত।
| ভোট ধাপ | মোট আসন | ইউএসডিপির দাবি করা জয় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| প্রথম ধাপ | 100 | 89 | প্রাথমিক ফলাফলে বিপুল জয় |
| দ্বিতীয় ধাপ | 100 | 87 | রোববারের ভোটের ফল |
| মোট (অধিকারিক নয়) | 330 | 176 | মোট সংখ্যা অর্ধেকের বেশি |
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, নির্বাচনটি কৌশলগতভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সেনার আধিপত্য ও বৈধতার আবরণ বজায় থাকে।
আগামী মার্চে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তখন নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং শীর্ষ সেনা পদ ছাড়ার সম্ভাবনা পূর্ণভাবে অস্বীকার করেননি, যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে।
