ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত: আরও ৩ মৃত্যু

বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বাইরে ১২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১০৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৭ জন, খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন।

এছাড়া গত একদিনে দেশে মোট ৬৮২ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৮৯,৬৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯২,২১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৭০ জনের।

অতীতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে পুরো বছরে ডেঙ্গুতে ১,৭০৫ জনের মৃত্যু এবং ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ—

  • জীবাণুনাশক ব্যবহার করে পানি জমে থাকা স্থান দূর করা।

  • মশার লার্ভা ধ্বংস করা।

  • সংক্রমিত এলাকায় মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা।

  • জ্বর বা শরীরের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।

নিচে ২৪ ঘণ্টার ভিত্তিতে বিভাগীয় হাসপাতাল ভর্তি ও মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে দেওয়া হলো—

বিভাগহাসপাতালে ভর্তি (২৪ ঘণ্টা)মন্তব্য
ঢাকা (বাইরে)১২৮
ঢাকা উত্তর সিটি১২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি১০৩
চট্টগ্রাম৮৫
বরিশাল৭৭
খুলনা৩৭
ময়মনসিংহ৩৪
রাজশাহী২২
সিলেট
মোট৬১৫২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডেঙ্গু মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা জরুরি। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে মশা দমন কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণের সচেতনতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।