খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামীকাল ২ জুলাই থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাড়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে। এর ঠিক একদিন আগেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাও। তবে পরীক্ষা শুরুর এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে সবচেয়ে বড় ভীতি ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগাতার লোডশেডিং এবং ভ্যাপসা গরম। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে পরীক্ষার্থীরা।
Table of Contents
এবার সারা দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জীবন গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার আগের দিনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুবাদে বর্তমান প্রজন্মের সিংহভাগ শিক্ষার্থীই বিদ্যুতের আলো ও পাখার নিচে পড়াশোনায় অভ্যস্ত। কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও দৃশ্যমান বা বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরীক্ষা উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিতরণে আলাদা কোনো বিশেষ নির্দেশনা তাদের কাছে নেই। তবে সামগ্রিকভাবে সারা দেশে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারণত প্রতি বছর রমজান ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ আগেভাগে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। অথচ জুলাই মাসের তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে তেমন কোনো বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে না।
গত তিন দিনের তুলনায় ৩০ জুন মঙ্গলবার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও তা মোটেও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গত ২৮ জুন মধ্যরাত থেকে শুরু করে ৩০ জুন বিকেল পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ধারাবাহিক লোডশেডিং হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ জুন রাত ১২টায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ মেগাওয়াট। পরদিন ২৯ জুন ভোরে তা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছায়। দিনের বেলা ঘাটতি সামান্য কমলেও ওই দিন সন্ধ্যা ও রাতে আবারও ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। ৩০ জুন সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ১০০ থেকে ৪৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি বজায় ছিল। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাহকদের দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শহরে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে দিন-রাতের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং শুরু হলে ভ্যাপসা গরমে টেবিলে বসে পড়ালেখা চালানো পরীক্ষার্থীদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
যশোরের এক পরীক্ষার্থী অনিক হাসান নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অবস্থা খুবই নাজুক। এই প্রচণ্ড ও দমবন্ধ করা গরমের মধ্যে পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করা বা রিভিশন দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার হলের ভেতরও যদি এমন লোডশেডিং হয়, তবে আমাদের কষ্টের সীমা থাকবে না।’
চট্টগ্রামের অভিভাবক রাশেদা বেগমও একই সুরে নিজের উদ্বেগের কথা জানান। তাঁর ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং শুরু হলেই ছেলে মোমবাতির আলোতে পড়তে বসে। কিন্তু গরমে হাত-পা ঘেমে অস্থির হয়ে যায়, বেশিক্ষণ মনোযোগ দেওয়া যায় না। এই গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা দেবে কীভাবে?’
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে টুকটাক বৃষ্টিপাত হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম কমছে না। আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ এই অদ্ভুত আবহাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণত ভারি বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মেঘের অপেক্ষাকৃত নিচু ও পাতলা স্তর থেকে নামছে। ফলে বৃষ্টির পানিও খুব বেশি ঠান্ডা থাকছে না। এই বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে গরম কমার বদলে উল্টো ভ্যাপসা ভাব বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, আগামী ২ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ও বিস্তৃত পরিসরে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের এই বৈরী পরিবেশের সঙ্গেই লড়াই করে পরীক্ষা দিতে হবে।
মন্তব্য