খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৩:১১ পিএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিখোঁজের দীর্ঘ ৫০ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গা শিউরে ওঠা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার বৃদ্ধের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তারই আপন ভায়রার বাড়ির রান্নাঘরের ১০ ফুট মাটির নিচ থেকে। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীসহ মোট ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইন পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। নিহতের পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে আওলাদ হোসেন হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় গত ২৩ মে নিহতের ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও দীর্ঘদিন আওলাদ হোসেনের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আওলাদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ চাইন পাড়া গ্রামের খায়ের বেপারীর (আওলাদের ভায়রা) বাড়িতে অভিযান চালায় এবং রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে প্রায় ১০ ফুট গভীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের এক ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত জীবনে নিহত আওলাদ হোসেন দুটি বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম বেশ কিছুদিন আগে মারা যান। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী আওলাদ হোসেনের যাবতীয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন তার সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীকে লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর তিনি স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এক নৃশংস পরিকল্পনা আঁটেন। পুলিশ জানায়, সাইফুল নামে এক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবং আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় আওলাদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে লাশটি ভায়রার বাড়ির রান্নাঘরের ভেতর গভীর গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর সিরাজদিখান থানা এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে সফল অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার সহযোগী সাইফুলসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা এবং অপরাধ স্বীকার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও আইনি পদক্ষেপের কথা বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিশদভাবে জানানো হবে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
মন্তব্য