সাদিও মানে’র গোলে মিশরের বিদায়: শিরোপার দৌড়ে সেনেগাল

আফ্রিকান ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাদিও মানে এবং মোহাম্মদ সালাহ’র লড়াইয়ে আরও একবার জয়ী হলেন মানে। বুধবার রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে মিশরকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে সেনেগাল। এর আগে ২০২১ সালের আফকন ফাইনাল এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফেও সালাহকে হতাশ করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন মানে। এবারও তার ব্যাতয় ঘটেনি; ম্যাচের শেষ দিকে মানে’র দুর্দান্ত এক গোল মিশরকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়। এই জয়ের ফলে আগামী রবিবার মরক্কোর টাঞ্জিয়ারে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল।

পুরো ম্যাচজুড়ে সেনেগালের দাপট থাকলেও গোল পেতে তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা পায় তারা। ল্যামিন কামারার একটি শট মিশরের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সাদিও মানে’র নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শটে জাল কাঁপান তিনি। মিশর হ্যান্ডবল ও অফসাইডের দাবি জানালেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি ঝাপিয়ে পড়লেও মানের সেই নিখুঁত শট রুখতে পারেননি। পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও সেনেগালকে গোলের জন্য শেষ সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হয়েছে।

সেমিফাইনালের সংক্ষিপ্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান

বিবরণবিস্তারিত তথ্য
ম্যাচের ফলাফলসেনেগাল ১ – ০ মিশর
ম্যাচ জয়ী গোলসাদিও মানে (৭৮ মিনিট)
বল দখলসেনেগাল ৬৫%, মিশর ৩৫%
টার্গেটে শটসেনেগাল ৪, মিশর ১
সাসপেন্ডেড খেলোয়াড় (ফাইনাল)কালিদু কুলিবালি ও হাবিব দিয়ারা

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ বিরক্তিকর ও ফাউলে ভরা। মিশরের কোচ হোসাম হাসান অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করায় সালাহ ও মারমুশের মতো তারকারা বলের নাগালই পাননি। মিশর মূলত টাইব্রেকারের আশায় রক্ষণভাগকে দুর্ভেদ্য করে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মানে’র ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কাছে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ম্যাচ শেষে সাদিও মানে বলেন, “আমরা জানতাম মিশর ভুল করার অপেক্ষায় থাকবে না, তাই আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি।”

এই হার মিশরের ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোচ হোসাম হাসানের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারিসহ ফুটবলবোদ্ধারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, সেনেগালের জন্য ফাইনালের আগে বড় দুঃসংবাদ হলো তাদের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী কালিদু কুলিবালি এবং মাঝমাঠের হাবিব দিয়ারা কার্ড সমস্যার কারণে ফাইনাল থেকে ছিটকে গেছেন। তবে ল্যামিন কামারার মতো তরুণদের পারফরম্যান্স কোচ আলিউ চিসেকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘরের মাঠে মরক্কোকে হারিয়ে সেনেগাল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে কি না।