খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫৫ এএম
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ যেন একটি স্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করেছে। মুহূর্তেই সেই স্ফুলিঙ্গ রূপ নেয় দাবানলে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যিনি ছিলেন সাহসী কণ্ঠস্বর, তার হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকার শাহবাগ, টিএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমসহ জুলাই অভ্যুত্থানের নেতারা সরাসরি রাজপথে নামেন। তারা ঘোষণা দেন, শুক্রবার জুমার পর সারা দেশে একযোগে বিক্ষোভ হবে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জোরালো হয়।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ সময় অবরোধের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। শত শত যানবাহন আটকে যায়। যদিও এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, আন্দোলনকারীরা বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য কিছু ত্যাগ প্রয়োজন।”
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দমকল বাহিনী সময়মতো না পৌঁছালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর স্পষ্ট করে দেয় যে ক্ষোভ কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। ঝালকাঠিতে, যেখানে হাদির জন্ম, সেখানে আবেগ আরও তীব্র। স্থানীয়রা বলেন, “হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য