ব্রেকিং নিউজ :
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

দেশ

স্মরণে ও শ্রদ্ধায়: কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ৪:৭ পিএম

স্মরণে ও শ্রদ্ধায়: কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

বাংলা কবিতার আকাশে উজ্জ্বল অথচ ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্রের নাম রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। প্রেম, দ্রোহ, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তিনি এমন শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, তাঁর মৃত্যুর তেত্রিশ বছর পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক ২০২৪ (মরণোত্তর)-এ ভূষিত করে। এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তাঁর অসামান্য সাহিত্যিক অবদান এবং গণমানুষের চেতনার কবি হিসেবে তাঁর মর্যাদাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং ১৯৭৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আশির দশকে বাংলাদেশে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠের যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন তার অন্যতম প্রধান সংগঠক ও প্রাণপুরুষ। তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারিত কবিতা শুধু সাহিত্যপ্রেমীদের নয়, বরং তৎকালীন সাধারণ মানুষের হৃদয়কেও গভীরভাবে আন্দোলিত করত। তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন ছিল প্রেমের কোমল অনুভূতি, তেমনি ছিল প্রচলিত অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বজ্রকণ্ঠ।

তাঁর রচিত অমর পঙক্তিমালা বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক তীব্র সামাজিক দলিল হিসেবে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যেমন তিনি লিখেছেন:

“যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক,

সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট”

কিংবা তাঁর অপর একটি বিখ্যাত পঙক্তি:

“আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,

আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি।”

কবি রুদ্রের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ আলোচিত। তিনি ১৯৮১ সালে প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ভালোবেসে বিবাহ করেন। তবে তাঁদের সেই বৈবাহিক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ১৯৮৬ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদে পর্যবসিত হয়। ব্যক্তিগত জীবনের এই নানাবিধ টানাপোড়েন ও একাকীত্ব তাঁর কাব্যিক অভিব্যক্তিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

মাত্র ৩৫ বছরের এক সংক্ষিপ্ত জীবনকাল পেয়েছিলেন এই কবি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ, একটি কাব্যনাট্য, গল্প এবং অর্ধশতাধিক সুপরিচিত গান রচনার মাধ্যমে। তাঁর নিজের লেখা ও সুর করা কালজয়ী গান “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো” আজও বাংলা সংগীতের ভুবনে সমানভাবে অমলিন ও জনপ্রিয় হয়ে আছে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন এই মহান কবি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করেন। তবে শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও তাঁর সৃষ্টিশীল কাজ তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর কবিতা, গান ও সংগ্রামী চেতনা আজও নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা ও সাহস জোগায়। কবির স্মৃতিকে ধারণ করে এবং তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁর জন্মভূমি বাগেরহাটের মংলার মিঠেখালিতে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে।

নিচে কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জীবন ও সাহিত্যিক কর্মের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়ের বিবরণতথ্য ও উপাত্ত
নামরুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
জন্ম তারিখ ও স্থান১৬ অক্টোবর ১৯৫৬, বরিশাল (পৈতৃক নিবাস: মিঠেখালি, মংলা, বাগেরহাট)
শিক্ষাজীবনএসএসসি (১৯৭৩), এইচএসসি (১৯৭৫); স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
বিবাহ ও বিচ্ছেদতসলিমা নাসরিন (বিবাহ: ১৯৮১, বিচ্ছেদ: ১৯৮৬)
মোট সাহিত্যকর্ম৭টি কাব্যগ্রন্থ, ১টি কাব্যনাট্য, গল্প এবং অর্ধশতাধিক গান
উল্লেখযোগ্য গানভালো আছি ভালো থেকো
মৃত্যু তারিখ২১ জুন ১৯৯১ (বয়স ৩৫ বছর)
রাষ্ট্রীয় পুরস্কারএকুশে পদক ২০২৪ (মরণোত্তর)
স্মারক প্রতিষ্ঠানরুদ্র স্মৃতি সংসদ (মিঠেখালি, মংলা)

আজ তাঁর প্রয়াণদিবসে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই দ্রোহী কবিকে, যিনি প্রেমকে করেছিলেন সংগ্রামের ভাষা, আর প্রতিবাদকে দিয়েছিলেন কবিতার নান্দনিক সৌন্দর্য। মানুষের কাছে মানুষের ঋণ কখনও শোধ হয় না; তবু তাঁর কালজয়ী কবিতা ও সৃষ্টিশীল কর্ম আমাদের বিবেককে আজও জাগ্রত রাখে।

মন্তব্য