খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:২০ পিএম

বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন লড়াই করছে মাত্র আটটি দল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ‘ফাইনাল’, যেখানে সামান্য একটি ভুলও শেষ করে দিতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। শেষ আটের দলগুলোর তালিকায় ইউরোপের আধিপত্য স্পষ্ট। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া আট দলের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের প্রতিনিধি। বাকি দুটি দল দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার মরক্কো।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা তাদের সুপারকম্পিউটারের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাব্য ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে তৈরি এই পূর্বাভাসে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনাকে।
অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, গোল করার সক্ষমতা, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং অতীতের মুখোমুখি লড়াই বিশ্লেষণ করেই সম্ভাবনার হিসাব তৈরি করা হয়েছে। নকআউট পর্বের প্রথম ধাপেও প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে সফল ছিল। শেষ ষোলোর ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টির সম্ভাব্য বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছিল তারা। পাশাপাশি আটটি ম্যাচের ছয়টির ফলও সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে।
অপ্টার বিশ্লেষণে ফ্রান্সকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রাখা হয়েছে। মরক্কোর বিপক্ষে তাদের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ। একইভাবে স্পেনকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ সম্ভাবনায় এগিয়ে রাখা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের লড়াই কঠিন হবে বলে মনে করা হলেও ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৬১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ৬৩ দশমিক ৬২ শতাংশ সম্ভাবনায় এগিয়ে রেখেছে অপ্টা।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-এর বিশ্লেষণভিত্তিক টুল ‘ক্রিস্টাল বল’-ও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মূল্যায়নেও ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। তবে প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছে তারা।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেসব দলকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। দুটি দলই এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪টি করে গোল করেছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও এগিয়ে আছেন দুই দলের তারকারা। গোলদাতার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যার গোল সংখ্যা আট। তার ঠিক পেছনেই সাতটি করে গোল নিয়ে অবস্থান করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বে পরিসংখ্যান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও ফুটবলে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে মাঠের পারফরম্যান্স। একটি মুহূর্তের অনুপ্রেরণা, একটি কৌশলগত পরিবর্তন কিংবা একটি ভুল পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই কাগজে-কলমে কোনো দল এগিয়ে থাকলেও প্রতিটি কোয়ার্টার ফাইনালই হতে যাচ্ছে অনিশ্চয়তায় ভরা একেকটি লড়াই।
‘ক্রিস্টাল বল’-এর হিসাব আরও বলছে, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা শুধু সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাতেই এগিয়ে নয়, দুটি দলের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য। তাদের বিশ্লেষণে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
মন্তব্য