খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৩১ এএম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই যুবকের অধিকারের লড়াই এবং বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট বাজার এলাকায় এই অদ্ভুত ও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক নারীকে দুই যুবক নিজেদের বৈধ স্ত্রী হিসেবে দাবি করায় স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, উপজেলার চর পোগলদিঘা গ্রামের মনোহারি ব্যবসায়ী আতিকুল হাসান রাসেলের সঙ্গে একই ইউনিয়নের গাছপাড়া গ্রামের শারমিন আক্তারের প্রথম বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। রাসেলের দাবি অনুযায়ী, তিনি তাঁর স্ত্রীকে শিক্ষিত করে তুলেছেন এবং প্যাথলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করেছেন। পরবর্তীতে শারমিন জনসেবা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের মালিক লিয়াকত শিকদারের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, আওনা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ও হাসপাতাল মালিক লিয়াকত শিকদার দাবি করেন, শারমিন তাঁর প্রথম স্বামী রাসেলকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ডিভোর্স দেওয়ার পরই তাঁকে বিয়ে করেছেন। গত আড়াই মাস ধরে তাঁরা জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন।
নিচে দুই যুবকের পাল্টাপাল্টি দাবির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | আতিকুল হাসান রাসেল (১ম পক্ষ) | লিয়াকত শিকদার (২য় পক্ষ) |
| দাবিকৃত সম্পর্ক | বর্তমান ও বৈধ স্বামী। | আইনত বিবাহিত স্বামী। |
| অভিযোগের ধরন | স্ত্রী প্রতারণা করে অন্য পুরুষের কাছে চলে গেছে। | আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে বিয়ে। |
| বর্তমান অবস্থান | সন্তানের জন্য স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান। | আড়াই মাস ধরে একত্রে বসবাস করছেন। |
| সামাজিক পরিচিতি | মনোহারি ব্যবসায়ী। | হাসপাতাল মালিক ও সাবেক নেতা। |
মঙ্গলবার দুপুরে লিয়াকত ও রাসেলের মধ্যে শারমিনকে নিয়ে প্রচণ্ড বাগবিতণ্ডা শুরু হলে বাজারের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সেখানে জড়ো হন। লিয়াকত শিকদারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকায় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্থানীয়রা ওই দুই যুবক এবং শারমিন আক্তারকে আটক করে আটকে রাখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একই নারীকে দুজন স্বামী দাবি করায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ এখন উভয়ের দাবি করা নিকাহনামা (বিয়ের দলিল) এবং যদি কোনো তালাকনামা থেকে থাকে, তা যাচাই-বাছাই করছে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো নারী যদি পূর্বের বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ (দ্বি-বিবাহ)। আবার যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় ডিভোর্স সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে সেই অধিকার তাঁর রয়েছে। শারমিন আক্তার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে ওই নারীকে তাঁর প্রকৃত ও বৈধ স্বামীর কাছে সোপর্দ করা হবে এবং কোনো পক্ষ যদি জালয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য