টঙ্গীর পোশাক কারখানায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শতাধিক কর্মী

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় অবস্থিত এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় বুধবার সকাল থেকে আবারও শতাধিক শ্রমিক একযোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সকাল ৮টার দিকে নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দেওয়া শ্রমিকরা কিছুক্ষণ পরই বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কারখানার ভিতরে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ফলে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। স্থানীয় পুলিশ ও কারখানা কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধানত বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা এবং সাধারণ অস্বস্তিজনিত উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর আগে সোমবারও একই কারখানায় অন্তত ২০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই দিন শ্রমিকরা এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার ভিতরে কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়েছিলেন।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, “শ্রমিকরা কেন হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, কারখানার ভেতরের ভেন্টিলেশন সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে না, যা এই অসুস্থতার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনো বিষয়টি নিশ্চিতভাবে স্বীকার করেননি। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কারখানার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তদারকি এবং অসুস্থ শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে পর্যালোচনা চালাচ্ছেন।

নিচের টেবিলটি সাম্প্রতিক অসুস্থ শ্রমিকদের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে:

তারিখঅসুস্থ শ্রমিক সংখ্যাপ্রধান উপসর্গচিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল
১০ জানুয়ারি, সোমবার২০বমি, মাথা ঘোরা, অস্বস্তিশহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
১৪ জানুয়ারি, বুধবার১০০+বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথাশহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের হাসপাতালসমূহ

এই ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকে জানিয়েছেন, তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যথাযথ ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করতে চাইছেন। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই কারখানায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।