জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এক অভাবনীয় ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) স্থান করে নিয়েছে যমজ তিন ভাইবোন। দুই ভাই ও এক বোনের এই বিরল ও যৌথ সাফল্য পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের এই গৌরবময় অর্জনে পরিবারে যেমন আনন্দের বন্যা বইছে, তেমনই সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও বইছে খুশির আমেজ।
মেধাবী ও কৃতি এই তিন শিক্ষার্থীর নাম ফাতেমা আক্তার, আনাস আল মামুন ও আরাফাত আল মামুন। বর্তমানে তাদের বয়স ১২ বছর। তারা উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বাবা মো. শামীম একজন প্রবাসী, যিনি সুদূর প্রবাসে থেকেও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে সবসময় সচেতন ও খোঁজখবর রাখতেন। তাদের মা আর্জিনা আক্তার পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি বর্তমানে ঘাটেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মায়ের পেশাগত গাইডলাইন এবং বাবার দূরপ্রবাস থেকে দেওয়া অনুপ্রেরণাই এই তিন ভাইবোনের সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে মোট চারজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং আরও চারজন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনই এই যমজ ভাইবোন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তারা বর্তমানে সখীপুর পিএম পাইলট মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।
বিদ্যালয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। কৃতি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন:
“এই তিন ভাইবোন ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, অনুগত ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। একসঙ্গে একই পরিবার ও একই বিদ্যালয়ের যমজ তিন শিক্ষার্থীর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বিশেষ গর্বের বিষয়। তাদের এই সাফল্য আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”
কৃতি যমজ তিন সন্তানের মা আর্জিনা আক্তার জানান, তাঁর সন্তানেরা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পড়াশোনায় গভীর মনোযোগী। সন্তানদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা আরও বলেন, এই অর্জনের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা, কঠোর তদারকি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহ সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও তাদের বাবা নিয়মিত সন্তানদের পড়াশোনার অগ্রগতির খোঁজ নিতেন এবং তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর সন্তানেরা যেন ভবিষ্যতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে পারে।
সখীপুর উপজেলার এই তিন নক্ষত্রের সাফল্য প্রমাণ করে যে, পারিবারিক সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং নিজেদের কঠোর অধ্যাবসায় থাকলে যেকোনো কঠিন লক্ষ্যই একসাথে অর্জন করা সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিরা এই কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
মন্তব্য