খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

আগামী জুলাই মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্যে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—এই চার ধরনের জ্বালানির বিদ্যমান মূল্যই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে নতুন মাসজুড়ে ভোক্তাদের আগের নির্ধারিত দামেই জ্বালানি কিনতে হবে এবং এ সময়ে মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যহ্রাস—কোনোটিই কার্যকর হচ্ছে না।
সোমবার (৩০ জুন) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে জুলাই ২০২৬ মাসের জন্য বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এ মূল্যহার আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। গত মে মাসের শেষ দিকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, জুলাই মাসেও সেই একই মূল্য বহাল রাখা হয়েছে। ফলে টানা আরও এক মাস দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীল মূল্য বজায় থাকছে।
জ্বালানি তেল দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে ডিজেল সড়ক পরিবহন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, নির্মাণ খাত এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্যান্য হালকা যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কেরোসিনের ব্যবহার আগের তুলনায় কমলেও দেশের কিছু এলাকায় এখনও গৃহস্থালি ও নির্দিষ্ট কিছু পেশাগত কাজে এর প্রয়োজন রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় পরিবহন খাতে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। একইভাবে পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন শিল্পখাতেও স্বল্পমেয়াদে ব্যয় বৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। যদিও বাজারদর নির্ধারণে জ্বালানি একমাত্র উপাদান নয়; কাঁচামালের মূল্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়ও সমানভাবে প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল থাকলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ব্যয় পরিকল্পনা তুলনামূলকভাবে সহজে করতে পারেন। এতে বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমে এবং পণ্য ও সেবার মূল্য নির্ধারণেও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের বড় ধরনের ওঠানামা হলে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সরকার প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সূচক পর্যালোচনা করে ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। এসব বিষয় বিশ্লেষণের পরই জুলাই মাসের জন্য বিদ্যমান মূল্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ভোক্তারা প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা দরে কিনতে পারবেন। এরপর আগস্ট মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে। ফলে আপাতত জুলাই মাসজুড়ে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বিদ্যমান মূল্যই কার্যকর থাকছে এবং ভোক্তা পর্যায়ে কোনো নতুন মূল্য সমন্বয় হচ্ছে না।
মন্তব্য