খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে পাস হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই নতুন বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ছিল বেশ দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের সিংহভাগ সংসদ সদস্য অংশ নিয়ে নিজ নিজ মতামত ও যুক্তি তুলে ধরেন। সব মিলিয়ে এবারের মূল বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৯১ জন সংসদ সদস্য। আর এই বাজেট আলোচনার পেছনে সংসদের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৫ ঘণ্টা ৫১ মিনিট, যা প্রায় ৪৬ ঘণ্টার সমান।
সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ড শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি জুন মাসজুড়ে চলা এই বাজেট অধিবেশনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায়, ঘাটতি অর্থায়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলেন আইনপ্রণেতারা।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এবারের বাজেট আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারি দলের মোট ২০০ জন সংসদ সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন। তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় এই বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। মূল বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের এই ২০০ জন সদস্য মোট ৩২ ঘণ্টা ৩ মিনিট বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ, করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনা তুলে ধরেন। বিরোধী শিবিরের মোট ৯১ জন সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন। তারা মোট ১৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ধরে বাজেটের বিভিন্ন ঘাটতি ও সংশোধনের দাবি নিয়ে বক্তব্য দেন। সরকার ও বিরোধী দলের এই দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়েই বাজেটের ভালো-মন্দ দিকগুলো সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পাসের আগে নিয়ম অনুযায়ী গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপরও সংসদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়ী অর্থবছরের অতিরিক্ত ব্যয়ের এই হিসাবে অংশ নেন মোট ২৫ জন সংসদ সদস্য। এদের মধ্যে সরকারি দলের ১৮ জন এবং বিরোধী দলের ৭ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। এই সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনাটি মোট ৩ ঘণ্টা ৩ মিনিট স্থায়ী হয়।
যদি সামগ্রিক হিসাব বিবেচনা করা হয়, তবে মূল বাজেট এবং সম্পূরক বাজেট—উভয় আলোচনা মিলিয়ে চলতি অধিবেশনে মোট ৩১৬ জন সংসদ সদস্য তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পেয়েছেন। আর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া আলোচনার পেছনে সংসদ অধিবেশনের মোট ব্যাপ্তি বা সময়কাল ছিল ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। দীর্ঘ এই পর্যালোচনার পর সংসদ সদস্যদের সর্বোচ্চ ফোরামের সম্মতিতে অবশেষে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট অনুমোদন পেল, যা আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর হিসেবে দেশজুড়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য