ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই আইনি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল না করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে নুসরাত তাবাসসুমের আইনগত বাধা দূর হলো।
সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে আলাপকালে কমিশনের এই অবস্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করার লক্ষ্যে তাঁরা আপিল না করার পক্ষে।
Table of Contents
হাইকোর্টের রুল ও আইনি প্রেক্ষাপট
সোমবার সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত তাবাসসুমের রিট পিটিশনের শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, মো. মনিরুজ্জামান এবং জহিরুল ইসলাম মুসা।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সময়সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত প্রার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে রায় দেন।
মনোনয়নপত্র জমাদান ও বাতিলের কারণ
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ২১ এপ্রিল, ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নুসরাত তাবাসসুম তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে।
| বিষয় | সময় |
| মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত শেষ সময় | ২১ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৪:০০ ঘটিকা |
| নুসরাত তাবাসসুমের জমার প্রকৃত সময় | ২১ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৪:১৯ ঘটিকা |
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে মাত্র ১৯ মিনিট বিলম্ব হওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করেননি এবং পরবর্তী বাছাই প্রক্রিয়ায় ২২ এপ্রিল তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। আইনজ্ঞদের মতে, সামান্য সময়ের বিলম্বের চেয়ে প্রার্থীর অংশগ্রহণমূলক অধিকারের বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রাধান্য পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন যে, কমিশন এখনো আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পায়নি। তবে তাঁরা নীতিগতভাবে রায়ের প্রতি একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন:
“আদালতের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আপিল করব না।”
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে নুসরাত তাবাসসুম এখন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একজন বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গণ্য হবেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান নির্বাচনী চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইসির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের সময়রেখা নিম্নরূপ:
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬।
প্রতীক বরাদ্দ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬।
ভোটগ্রহণের তারিখ: ১২ মে, ২০২৬।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত তাবাসসুমের আগে মোট ৪৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াত জোট থেকে ১২ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর এই সংখ্যা এখন ৫০-এ উন্নীত হবে। এনসিপি নেতা নুসরাত তাবাসসুমের এই আইনি লড়াই ও জয় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
