ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় জয়ন্ত সরকার (১৮) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জয়ন্ত পৌর এলাকার ঝাউদিয়া গ্রামের বিনানন্দ সরকারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে জয়ন্ত কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বকশিপুর গ্রামে গঙ্গা পূজা দেখতে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজেই মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মাথা ও শরীরের অভ্যন্তরীণ আঘাতই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে চলছে কান্না আর নিস্তব্ধতা। প্রতিবেশীরাও এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাস্থলের সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু এবং বাঁকযুক্ত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তারা দাবি করেছেন, ওই মোড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানোর সময় অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতির প্রবণতা এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়িয়ে তুলছে। তারা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সড়কে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আর না ঘটে।
মন্তব্য