খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই মে ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে ‘দাই দাই’ গানটি, যা কণ্ঠ দিয়েছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বুর্না বয়। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে গানটির প্রথম মঞ্চায়নের এক সপ্তাহ পর এটি বিশ্বের বিভিন্ন বড় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে একযোগে প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) গানটির বৈশ্বিক মুক্তির ঘোষণা দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি জানায়, ‘দাই দাই’ থেকে অর্জিত সব ধরনের রয়্যালটি ফিফার বিশেষ ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা হবে। ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই গান থেকে টুর্নামেন্ট শেষে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে ব্যয় করা হবে।
ফিফা আরও জানায়, আসন্ন বিশ্বকাপের আসর শুরু হবে আগামী ১১ জুন থেকে। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই। পুরো আসরটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের হাফ টাইম শোতে একসঙ্গে লাইভ পারফর্ম করবেন শাকিরা, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কেপপ গ্রুপ বিটিএস (BTS)। আয়োজকরা মনে করছেন, এই যৌথ পরিবেশনা বিশ্বব্যাপী ফুটবল ও সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা নতুন নন। এর আগে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ পরিবেশন করে তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই গানটি পরবর্তীতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল থিম সং হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠানেও তিনি পারফর্ম করেছিলেন।
নতুন গান ‘দাই দাই’ প্রকাশের মাধ্যমে আবারও বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সংগীতযাত্রা যুক্ত হলো। ফিফার মতে, এই গানটি ফুটবল, সংস্কৃতি ও সংগীতের সমন্বয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।
ফিফা জানিয়েছে, এবারের থিম সং কেবল একটি সংগীত প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেও কাজ করবে। সংগৃহীত অর্থ শিশুদের শিক্ষা ও ক্রীড়া উন্নয়নে ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘দাই দাই’-এর মুক্তি এবং ফাইনালের হাফ টাইম শো পরিকল্পনা ফুটবল ও বিনোদনের সমন্বিত এক বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
মন্তব্য