জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসাছাত্র নিহত

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবদুল্লাহ আল মাসুম (১৪) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর–চেয়ারম্যান সড়কের মান্নাননগর কোম্পানীঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুল্লাহ আল মাসুম জেলার হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শূন্যের চর গ্রামের সৈয়দ মাঝি বাড়ির মাওলানা কাউছারের ছেলে। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জামিয়া ইসলামিয়া ফয়জিয়া মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়িতে খাবার খেয়ে বিকেলে মাদরাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন মাসুম। যাত্রাপথে অটোরিকশাটি সোনাপুর–চেয়ারম্যান সড়কের মান্নাননগর কোম্পানীঘাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের মুহূর্তে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা মাসুমসহ এক নারী ও দুই শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবদুল্লাহ আল মাসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানের চালক গাড়ি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে এলাকাবাসী দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে গাড়িটি আটক করে রাখে এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। এ ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।

নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও গভীর শোক ও হতাশা দেখা দেয়। শিক্ষকরা জানান, মাসুম নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল এবং আচরণে ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সোনাপুর–চেয়ারম্যান সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে থাকে। পাশাপাশি কিছু জায়গায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা সড়কে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর