ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। চেক–ইন ও বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৭৬ জন যাত্রী কেউই বিমানে ওঠেননি। বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় ভিসা যাচাই নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–মালয়েশিয়া রুটের বিজি–৩৮৬ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির জন্য মোট ২৪৫ জন যাত্রী নির্ধারিত ছিল।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী শেষ পর্যন্ত বিমানে উঠতে ব্যর্থ হন। এর মধ্যে পাঁচজনের ভিসা ও পাসপোর্ট তথ্যের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় বোর্ডিং গেট থেকেই তাদের অফলোড করা হয়। এই ঘটনার পরপরই বোর্ডিং এলাকায় অপেক্ষমাণ আরও কয়েকজন যাত্রী হঠাৎ করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ফলে অফলোড হওয়া পাঁচজনসহ মোট ৭৬ জনই ফ্লাইট মিস করেন।
ঘটনাটি ঘিরে বিমানবন্দরের ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, চেক–ইন কাউন্টারে কিছু যাত্রীর নথি প্রাথমিকভাবে বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হলেও বোর্ডিং গেটে পুনরায় যাচাইয়ের সময় পাঁচজনের ভিসা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
আরও জানা গেছে, ফ্লাইটে অনুপস্থিত থাকা এসব যাত্রীর সবাই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে যাত্রীদের একটি অংশের গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, কারণ কিছু যাত্রী মালয়েশিয়া হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বোর্ডিং চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় এবং একে একে কয়েকজনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিছু সময়ের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ কয়েকজন যাত্রীকে অফলোড করার ঘোষণা দেয়।
বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, ইমিগ্রেশন পর্যায়েও কিছু যাত্রীর নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। এর আগেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর যাত্রা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে—একাধিক ধাপের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সন্দেহজনক নথি নিয়ে যাত্রীরা বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন এবং শেষ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, পুরো ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠিত ট্রাভেল সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য