খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৭ পিএম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকার ধলেশ্বরী মাঠের শহীদ মিনার থেকে শিহাব নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। কিশোরটির মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত শিহাব মানিকগঞ্জ পৌরসভার হিজুলি এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বয়স মাত্র ১৫ হলেও শিহাব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ করত। সে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় মাছ কাটার কাজ করত। নিজের উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের দৈনন্দিন খরচে কিছুটা সহায়তা করার চেষ্টা করত বলে জানিয়েছে তার স্বজনেরা।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে শিহাব নিয়মিত বাড়িতে থাকছিল না। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানো এবং কখনো রাতে বাড়ির বাইরে থাকার বিষয়টি পরিবারের নজরে এসেছিল। ঘটনার আগের রাতেও বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি।
শিহাবের মা জানান, ওই রাতে ছেলে বেউথা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু ওই সময় বাড়িতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি ছেলেকে সেই অর্থ দিতে পারেননি। টাকা না পেয়ে শিহাব মন খারাপ করে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে চলে যায়। রাত পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে শিহাবের মা জানতে পারেন, জাগীরের ধলেশ্বরী মাঠের শহীদ মিনারের একটি স্তম্ভে তাঁর ছেলের লাশ ঝুলছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন শিহাবের মা। তাঁর দাবি, ওই যুবকদের কারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, শিহাবের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার আগের রাতে শিহাবের বাড়ি থেকে বের হওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থাকা, রাতে আর বাড়ি না ফেরা এবং পরদিন শহীদ মিনারের একটি স্তম্ভে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়ার বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া প্রয়োজন।
কিশোরটির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তার শেষ সময়ে কারা সঙ্গে ছিল, কোথায় গিয়েছিল এবং কীভাবে শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছেছিল—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও পরিবারের দেওয়া তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত শিহাবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য