রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় লাফ, সাড়ে ১১ মাসে ৩৪.৫৭ বিলিয়ন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাড়ে এগারো মাসে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে শুরু করে গত ১৭ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিমাণ অর্থ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স প্রবাহের বার্ষিক তুলনামূলক চিত্র

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এর আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই সাড়ে এগারো মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ যুক্ত হয়েছে, যা শতাংশের হিসাবে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সরকারের বিভিন্নমুখী উৎসাহমূলক পদক্ষেপ ও প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র মনে করছে।

চলতি জুন মাসের আংশিক খতিয়ান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শেষ মাস তথা জুন মাসের প্রথম ১৭ দিনে (১ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত) প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১ হাজার ৮১৬ মিলিয়ন (১ দশমিক ৮১৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুন মাসের একই সময়ে (১ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত) দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই দুই বছরের জুন মাসের নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুনের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

দৈনিক প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ও সামগ্রিক প্রভাব

চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে দৈনিক রেমিট্যান্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৭ জুন এক দিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। একক দিনে রেমিট্যান্সের এই পরিমাণ দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছরের শেষ দিকে এসে প্রবাসীদের আয় পাঠানোর এই গতি অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও ডলার সংকটের এই সময়ে প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হারের সমন্বয় এবং রেমিট্যান্স প্রেরণে সহজীকরণ প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, যা এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।