খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট—নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। আর এমন এক অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচে আবারও জ্বলে উঠলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি। থ্রিলার ছড়ানো ম্যাচে দলকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের রেকর্ডবুক নতুন করে লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই জাদুকর ম্যাচের প্রথম গোলটি করার সাথে সাথেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
Table of Contents
ম্যাচের শুরুতেই ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন লিওনেল মেসি। এই গোলটির মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এককভাবে ২০টি গোল করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে নিজের গোলসংখ্যাকে কুড়ির ঘরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থানকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্পর্শ করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হবে।
বিশ্বকাপের আঙিনায় মাঠে নামার দিক থেকে এই ম্যাচটি ছিল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ দিন। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ৩০টি ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি যেভাবে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
শুধু ম্যাচের সংখ্যাই নয়, গোল করার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যের এক নতুন নজির স্থাপন করেছেন মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে মোট ১৮টি ভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে জাল খুঁজে পাওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে অন্য কোনো ফুটবলার এত বেশি দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মূল পর্বে গোল করতে পারেননি।
গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে নকআউটের মতো স্নায়ুচাপের ম্যাচে মেসির কার্যকারিতা সবসময়ই অনন্য। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড। এই তালিকায় ১১টি গোল ও অ্যাসিস্ট নিয়ে মেসির ঠিক পরের অবস্থানেই যৌথভাবে আছেন ব্রাজিলের কালো মানিক পেলে এবং ফ্রান্সের বর্তমান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। নকআউটের আগামী ম্যাচগুলোতে মেসি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে চলে যাবেন বলে ভক্তদের প্রত্যাশা।
বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে একটি গোল পাওয়াই যেকোনো স্ট্রাইকারের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে মেসি স্থাপন করেছেন ধারাবাহিকতার নতুন এক সংজ্ঞা। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার প্রথম ফুটবলার এখন লিওনেল মেসি।
একই সাথে একাধিক বিশ্বকাপে অন্তত ৭টি করে গোল করার ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি। গত কাতার বিশ্বকাপে ৭টি গোল করে আলবিসেলেস্তেদের অধরা ট্রফি এনে দেওয়ার পর, চলমান বিশ্বমঞ্চেও ইতিমধ্যেই নিজের গোলসংখ্যাকে ৭-এর ঘরে নিয়ে গেছেন এই ফুটবল মহানায়ক। কেপ ভার্দের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের পর, মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনা আরও একটি বিশ্বজয়ের দিকে এগিয়ে যাবে—এমনটাই এখন কোটি ফুটবল ভক্তের বিশ্বাস।
মন্তব্য