খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

লক্ষ্মীপুর জেলার Raipur Upazila–এর উত্তর চর বংশী ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে North Char Ababil Union–এর সাজু মোল্লার মাছঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রাব্বি হোসেন (২২), ফরহাদ হোসেন (২৭), সুমন হোসেন (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৩২)–কে Raipur Upazila Health Complex–এ ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের পরিচয় ও অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে Raipur Police Station সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক শফি সরদার এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ফারুক সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাস্থলটি North Char Bangshi Union–এর সন্নিকটবর্তী হওয়ায় আশপাশের এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাছঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
একটি পক্ষের নেতা শফি উদ্দিন অভিযোগ করেন, ফারুক সরদার, যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ এবং তারেক সরদারের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোক মাছঘাট দখলের উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। তার দাবি অনুযায়ী, হামলার সময় রাব্বি, ফরহাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক সরদার বলেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে মাছঘাট পরিচালনা করে আসছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত নিজেদের পক্ষের মধ্যেই হয় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং এতে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হয়।
একইভাবে, উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটির সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় আধিপত্য ও মাছঘাট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ পুনরায় প্রকাশ্যে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য