রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম জোরদার করার অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অপরাধ দমন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন, নিয়মিত মামলার আসামি, পুরোনো মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং মোবাইল আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
অভিযানে মিরপুর মডেল থানা এলাকা থেকে ৩১ জন, তেজগাঁও এলাকা থেকে ৪৯ জন, গুলশান এলাকা থেকে ৩০ জন এবং যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
নিম্নে এলাকার ভিত্তিতে গ্রেফতারের পরিসংখ্যান দেওয়া হলো—
এলাকা
গ্রেফতার সংখ্যা
মিরপুর মডেল থানা এলাকা
৩১ জন
তেজগাঁও থানা এলাকা
৪৯ জন
গুলশান থানা এলাকা
৩০ জন
যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা
১৯ জন
মোট
১২৯ জন
পুলিশ আরও জানায়, তেজগাঁও থানা এলাকার গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন উপবিভাগ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৫ জন, শেরেবাংলা নগর এলাকায় ৬ জন, মোহাম্মদপুর এলাকায় ১৬ জন, আদাবর এলাকায় ৭ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ৮ জন এবং হাতিরঝিল এলাকায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও আটক করা হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে গ্রেফতারদের মধ্যে ৩ জন নিয়মিত মামলার আসামি এবং ১ জন পুরোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এছাড়া ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার গ্রেফতার সংক্রান্ত বিস্তারিত বিভাজন নিচে দেওয়া হলো—
ধরন
সংখ্যা
নিয়মিত মামলার আসামি
৩ জন
পুরোনো মামলার আসামি
১ জন
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত
৪ জন
মোবাইল আদালতে সাজাপ্রাপ্ত
১১ জন
মোট
১৯ জন
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ দমন, চুরি-ডাকাতি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এ ধরনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও কার্যকর হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
মন্তব্য