খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩১ এএম

রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আহসান জহীর খান (৫০)। পুলিশের দাবি, তিনি সংগঠনের নীতিনির্ধারণী বা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের একজন ‘এহসার’ সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গোপন ছক আঁকছিলেন।
Table of Contents
গতকাল ২ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন জিয়া উদ্যান লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে সিটিটিসির একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে আহসান জহীর খানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগী অন্ধকারে গা-ঢাকা দিতে সক্ষম হন। আজ সোমবার ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আহসান জহীর খান নব্য জেএমবির কট্টর আদর্শে উজ্জীবিত। তিনি এবং তাঁর পলাতক সহযোগীরা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তাঁরা অনলাইনে ব্যাপক সক্রিয় ছিলেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে গোপন গ্রুপ ও চ্যানেল খুলে ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এসব ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তাঁরা উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহসান জহীর খানের বিরুদ্ধে অপরাধের পূর্ব রেকর্ড রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছিল। শেরেবাংলা নগর এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিচে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির তথ্য এবং অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | আহসান জহীর খান (৫০)। |
| সংগঠনের নাম | নব্য জেএমবি (নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ)। |
| সংগঠনে পদমর্যাদা | এহসার সদস্য (সক্রিয় ও একনিষ্ঠ কর্মী)। |
| অভিযানের স্থান | জিয়া উদ্যান লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা, শেরেবাংলা নগর। |
| অভিযানের সময় | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০০ ঘটিকা। |
| যোগাযোগের মাধ্যম | টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের এনক্রিপ্টেড চ্যাট। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নতুন মামলা। |
সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণার বিষয়টি মাথায় রেখে সাইবার মনিটরিং সেল কাজ করছে। বিশেষ করে টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে জঙ্গিরা যাতে কোনো বড় ধরণের হামলা বা নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি বা অনলাইন পোস্ট দেখলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের ফলে রাজধানী কেন্দ্রিক বড় ধরণের কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য