ব্রেকিং নিউজ :
ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

বিনোদন

মুক্তিযুদ্ধে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও জীবনগাথা

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

মুক্তিযুদ্ধে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও জীবনগাথা

ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত এবং কালজয়ী নক্ষত্র হলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাংলা, হিন্দিসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় কণ্ঠ দিয়ে এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছেন। এই উপমহাদেশে সংগীতের অনুরাগী অথচ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নাম শোনেননি কিংবা তাঁর কালজয়ী গান শোনেননি, এমন মানুষ মেলা ভার। তিনি ছিলেন একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার এবং সফল সংগীত পরিচালক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই মহান শিল্পী এক অকৃত্রিম বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অনন্য অবদান ও সংগীত

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের গান অবরুদ্ধ পূর্ব বাংলার মানুষকে গভীরভাবে উজ্জীবিত করেছিল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে অদম্য সাহসের সঞ্চার করেছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচারিত তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী একটি গান হলো:

“মা গো, ভাবনা কেন?

আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে,

তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি…”

এই গানটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত বাঙালি জাতির জাতীয় জীবনে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছিল। কেবল বেতার কেন্দ্রে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্যেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের এই মহান অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ভারতের অন্যান্য প্রথিতযশা শিল্পীদের সাথে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির এবং চ্যারিটি বা দাতব্য অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে গান গেয়েছেন। এসব অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত যাবতীয় অর্থ তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ শরণার্থীর মানবিক সহায়তার জন্য গঠিত তহবিলে সরাসরি অর্পণ করেছিলেন।

সুরের বৈচিত্র্য ও কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সংগীতের প্রতিটি শাখায় নিজের অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। হিন্দি চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় গান “হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা” কিংবা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি “এই পথ যদি না শেষ হয়”— এই গানগুলো আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীতেও তাঁর দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। তাঁর গম্ভীর ও দরদি কণ্ঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিগুলো এক অনন্য ও জীবন্ত রূপ লাভ করত, যা রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার ও প্রসারে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।

সম্মাননা প্রত্যাখ্যান, অর্জন ও ব্যক্তিগত সংক্ষিপ্ত বিবরণী

সংগীতের প্রতি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নিবেদন ছিল সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক চিন্তা, মোহ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ঊর্ধ্বে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় যখন তিনি ভারত সরকারের দেওয়া অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণ’ উভয় পদকই বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে তিনি নিজের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইবার ভারতের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। নিচে তাঁর জীবন ও কীর্তির মূল তথ্যাদি একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও দিকসমূহবিস্তারিত তথ্য, বিবরণ ও ঐতিহাসিক ফ্যাক্টস
নামহেমন্ত মুখোপাধ্যায়
জন্ম তারিখ১৬ জুন, ১৯২০ সাল
পেশাগত পরিচয়সংগীতশিল্পী, সুরকার এবং চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালক
ভাষাগত পরিধিবাংলা, হিন্দিসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষা
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকাস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়ে অনুপ্রেরণা প্রদান এবং অর্থ সংগ্রহ
বিখ্যাত সৃষ্টিসমূহ“মা গো, ভাবনা কেন?”, “এই পথ যদি না শেষ হয়”, “হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা”
প্রত্যাখ্যাত সম্মাননাভারতের বেসামরিক পদক ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণ’
প্রধান রাষ্ট্রীয় অর্জনদুইবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ

সুরের শুকতারার প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধা

১৯২০ সালের ১৬ জুন জন্মগ্রহণ করা সুরের ভুবনের এই উজ্জ্বল শুকতারা তাঁর কাজের মাধ্যমে নিজেকে অমর করে রেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম অবদান বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সংগীতের মাধ্যমে মানবতাকে জাগ্রত করার এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করে গেছেন, তা চিরকাল বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। এই মহান সুরের জাদুকরের প্রতি বাঙালি জাতির গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরকাল অক্ষুণ্ন থাকবে।

মন্তব্য