ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকা ও থানাচত্বরজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া, আর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে কেবল নির্মাণসামগ্রী রডই ছিল না, বরং অননুমোদিতভাবে বেশ কয়েকজন যাত্রীও বহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অতিরিক্ত ওজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পরিবহনই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বাড়িয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ভারী রডের চাপ এবং উল্টে যাওয়া গাড়ির নিচে আটকে অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ট্রাকের ভেতর ও নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ পরবর্তীতে যমুনা সেতু পূর্ব থানায় নেওয়া হলে সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়, যেখানে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা ঈদ ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফিরছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত সকল নিহতের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছিল এবং ট্রাকটির প্রযুক্তিগত অবস্থা কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা এবং যানবাহনের অতিরিক্ত বোঝা বহনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সড়কে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বেপরোয়া গতি এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়ক, কালিহাতী উপজেলা |
| সময় | ভোর আনুমানিক চারটা |
| যানবাহন | রডবোঝাই ট্রাক |
| নিহত | ১৫ জন |
| আহত | অন্তত ৬ জন |
| প্রধান কারণ | নিয়ন্ত্রণ হারানো ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন |
| নিহতদের এলাকা | নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা (প্রায় ১৩ জন) |
| উদ্ধার কার্যক্রম | ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ |
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তার ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পরিবহনের বাস্তব চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
