নকল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দম্পতি আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ঘোষিত ইশতেহারকে ব্যবহার করে ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে বিক্রির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইউএনও জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর রাসেল ও তার স্ত্রী হাসিনা নামে দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে, কেউ এ ধরনের কার্ড বিক্রির প্রস্তাব দিলে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ প্রদান করবেন না।

ভুক্তভোগীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই রাসেল ও হাসিনা কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। তারা নিজেদের পরিচয় দেন ‘বিএনপি কর্মী’ হিসেবে এবং ‘জিসান ট্রেডার্স’ নামে প্রতিষ্ঠান চালু করার কথা বলেন।

দম্পতি সহজ-সরল নারীদের কাছে ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করেন। প্রতিটি কার্ড ৫০ টাকায় ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তারা প্রতিশ্রুতি দেন, এই কার্ড দেখালে প্রতি মাসে ১,২৮৫ টাকায় চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করা সম্ভব হবে। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে কমপক্ষে ৩০০ পরিবারের কাছে কার্ড বিতরণ করা হয়।

বিতরণকৃত এলাকায় প্রাথমিক তথ্য

এলাকাবিতরণকৃত কার্ডের সংখ্যাক্রেতার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতিমন্তব্য
নরসিংপুর৮০মাসিক ১,২৮৫ টাকায় পণ্যঅধিকাংশ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত
বকুলতলা৭০মাসিক ১,২৮৫ টাকায় পণ্যপ্রলোভনে সহজে পড়েছেন
চর কাশিপুর৯০মাসিক ১,২৮৫ টাকায় পণ্যস্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক
মধ্য নরসিংপুর৬০মাসিক ১,২৮৫ টাকায় পণ্যকার্ড বিতরণ পরিত্যক্ত

সোমবার সকালে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের বিনিময়ে প্রথম কিস্তির পণ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ক্রেতারা কোনো পণ্য পাননি। পরে তারা বুঝতে পেরেছেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর ভুক্তভোগী নারীরা একত্রিত হয়ে জিলানীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

জরিনা খাতুন নামে একজন ক্রেতা বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানি থেকে এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করলেও কার্ড দেওয়া হয়নি। ফোন করার চেষ্টা করলেও ফোনও ধরেননি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কার্ড ক্রেতাদের বেশিরভাগই নারী ও স্বল্পশিক্ষিত। তাদের সহজেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলা সম্ভব হয়। তারা দাবি করেছেন, রাসেল মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী নেতার একজন অনুসারী হিসেবে পরিচিত, তবে দলের কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, “রাসেল ওরফে জিলানি আমাদের দলের কেউ নয়। যে এই ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করছে, সে নিঃসন্দেহে একজন প্রতারক। তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। আমরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না।”

উপজেলা প্রশাসন এই ঘটনায় কঠোর মনোভাব নিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য প্রতারণামূলক কার্যক্রম প্রতিরোধের চেষ্টা করছে।