ভালুকায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের শিকার, পলাতক আসামি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ৯ বছরের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের একটি জঙ্গলবেষ্টিত এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও নির্মমতার চিত্র

স্থানীয় বাসিন্দা এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা কিছুদিন আগে মারা যান। এরপর থেকে তার মা জীবিকার তাগিদে উপজেলার গোয়ারী এলাকায় বসবাস শুরু করেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। ঘটনার দিন গত রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় নন্দীবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে যায়।

সেখানে পূর্বপরিচিত একই গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩০) নামের এক যুবক শিশুটিকে একা পেয়ে বিস্কুট কিনে দেওয়ার লোভ দেখায়। অবুঝ শিশুটি সেই প্রলোভনে পা দিলে ইসমাইল তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার সংলগ্ন নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের পর শিশুটি রক্তাক্ত ও অসুস্থ অবস্থায় কোনোমতে বাড়ি ফিরে আসে এবং তার মায়ের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। মেয়ের এই অবস্থা দেখে মা দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আইনি পদক্ষেপ ও মামলার বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় হাজির হন এবং ইসমাইল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা জানান, অপরাধের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।

নিচে মামলার প্রাথমিক তথ্যাদি একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকবিষয়ের বিবরণসংশ্লিষ্ট তথ্য
ভুক্তভোগীর প্রোফাইলবয়স ৯ বছর, মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
প্রধান অভিযুক্তইসমাইল হোসেন (৩০), গ্রাম: গোয়ারী, ভালুকা
ঘটনার সময় ও স্থান১৪ জুন (রবিবার) দুপুর, বিরুনীয়া ইউনিয়নের মোবাইল টাওয়ার সংলগ্ন জঙ্গল
মামলা দায়েরকারীভুক্তভোগী শিশুর মা (পোশাক কারখানা কর্মী)
সংশ্লিষ্ট থানাভালুকা মডেল থানা, ময়মনসিংহ
বর্তমান চিকিৎসা স্থানওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

সামাজিক উদ্বেগ ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এই নির্মম ঘটনার পর গোয়ারী ও বিরুনীয়া এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষক ইসমাইলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বা পরিত্যক্ত জঙ্গলগুলোর আশেপাশে বখাটেদের আনাগোনা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশি টহল জোরদার না হলে এবং এই ধরনের অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজ থেকে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।