বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৩৫ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১০ মে, ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এডিস মশা নিধন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
Table of Contents
গত ২৪ ঘণ্টার ভর্তি ও ছাড়পত্রের পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের ভৌগোলিক বিন্যাস নিম্নরূপ:
বরিশাল বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ১৪ জন।
ঢাকা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ০৮ জন।
খুলনা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ০৬ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ০৪ জন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: ০২ জন।
ময়মনসিংহ বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ০১ জন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, একই সময়ে সারা দেশে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া মোট ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৫ জনে।
চলতি বছরের সামগ্রিক সংক্রমণ পরিস্থিতি
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
আক্রান্ত পুরুষ: ৬২.৯ শতাংশ।
আক্রান্ত নারী: ৩৭.১ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, মে মাসের শুরু থেকে সংক্রমণের হার কিছুটা অস্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সুস্থতার হারও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিগত বছরের তুলনায় সংক্রমণের তুলনামূলক চিত্র
পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় চলতি বছরের সংক্রমণের তীব্রতা পর্যালোচনার জন্য গত বছরের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী:
২০২৫ সালের মোট সংক্রমণ: ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
২০২৫ সালের মোট মৃত্যু: বিগত বছরে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪১৩ জন ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছিল।
বিগত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আসন্ন বর্ষা মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়, যা ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিকার ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসার মতো পরিত্যক্ত পাত্রে স্বচ্ছ পানি জমতে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার সচল রাখা হয়েছে এবং রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনগুলোকে মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নিয়মিত বুলেটিন জনগণকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নম্বরটি চব্বিশ ঘণ্টা সচল রয়েছে।
