খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই মার্চ ২০২৬, ৬:২১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের রেশ এবার আছড়ে পড়ল ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে। বুধবার (৪ মার্চ) এক ভয়াবহ নৌ-হামলায় শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে ইরানের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে ইরানের নৌ-প্রভাব খর্ব করতেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জলসীমায় উত্তেজনার পারদকে চরমে নিয়ে গেছে।
Table of Contents
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান কেবল শুরু। সামনে আরও বড় আকারের এবং বিধ্বংসী হামলা ধেয়ে আসছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সম্পূর্ণ আকাশসীমার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং তাদের নৌ-চলাচলের সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান সামরিক লক্ষ্য।
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| আক্রান্ত জাহাজের নাম | আইরিস ডেনা (IRIS Dena), ইরানি নৌবাহিনী। |
| হামলার স্থান | শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় জলসীমা, ভারত মহাসাগর। |
| আক্রমণকারী পক্ষ | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী (সাবমেরিন বা বিমান)। |
| নিহত সেনার সংখ্যা | অন্তত ৮০ জন (শ্রীলঙ্কা সরকারের ভাষ্যমতে)। |
| উদ্ধারকৃত সদস্য | ৩২ জন (শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী কর্তৃক)। |
| নিখোঁজ সদস্য | প্রায় ৬৮ জন। |
| মোট আরোহী | প্রায় ১৮০ জন। |
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ থেকে পাঠানো একটি জরুরি বিপদসংকেত (Distress Signal) পাওয়ার পরপরই দ্রুত উদ্ধারকারী দল প্রেরণ করে। কলম্বোর নৌ-মুখপাত্রের মতে, জাহাজটিতে নথিপত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিল। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সমুদ্রের তলদেশে জাহাজটি নিমজ্জিত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৮০টি মৃতদেহ শনাক্ত করা গেছে এবং বাকি ৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার উপকূলে এই হামলা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এক অশনিসংকেত। ভারত মহাসাগরের মতো একটি শান্ত ও বাণিজ্যিক রুটে সরাসরি পরাশক্তির সামরিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের নৌ-বহরকে এই অঞ্চলে মহড়া বা কৌশলগত কারণে মোতায়েন করেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে। এই হামলার ফলে ভারত মহাসাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান সুর ও সামরিক কৌশল থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা এই সংঘাতকে কেবল ইরানের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি সম্পদ ধ্বংস করার মাধ্যমে তারা তেহরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, ইরান এই নজিরবিহীন নৌ-হামলার প্রতিবাদে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা উপকূলের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে একটি বৈশ্বিক নৌ-যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ভারত মহাসাগরের উপকূলে এই ধ্বংসযজ্ঞ আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক রাজনীতি ও নৌ-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য