ভারতের ভূকম্পনে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন এলাকা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সকালবেলায় সংঘটিত এই ভূকম্পনের কম্পন অল্প সময় স্থায়ী হলেও বহু স্থানে মানুষ তা অনুভব করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা ২৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্য, যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে রিখটার স্কেলে ৫, যা মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভূ-তাত্ত্বিকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের সীমান্তের তুলনামূলক নিকটে হওয়ায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি মাঝারি গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় এর কম্পন বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়নি।

ভারতের সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে মণিপুরের কামজং এলাকায় এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। তাদের হিসাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২ কিলোমিটার গভীরে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ১০০ দশমিক ৬ কিলোমিটার। বিভিন্ন সংস্থার পরিমাপে সামান্য তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিচে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

উৎসসময় (বাংলাদেশ)মাত্রাগভীরতাউৎপত্তিস্থল
আবহাওয়া অধিদপ্তর৬:২৯:৩৬ সকালউল্লেখ নেইমণিপুর, ভারত
ভারতের সংস্থা৬:২৯ সকাল৫.২৬২ কিলোমিটারকামজং, মণিপুর
যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা৬:২৯ সকাল১০০.৬ কিলোমিটারমণিপুর অঞ্চল

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প পরিমাপের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্র, পদ্ধতি ও অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে সংস্থাভেদে মাত্রা ও গভীরতায় সামান্য ভিন্নতা দেখা যেতে পারে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভূকম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।