বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করতে এবং ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক সম্প্রতি দেশের ছয়টি জেলায় উদ্যোক্তা সম্মেলনের একটি বিশেষ ধারাবাহিক সিরিজ সম্পন্ন করেছে। এই সম্মেলনগুলো মূলত ব্র্যাক ব্যাংকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ইন্টারনেট ঋণ ‘সাফল্য’ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে যেকোনো ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ধরণের প্রথম ই-ঋণ সেবা। ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ শিরোনামের এই গণযোগাযোগ ও সশরীরে অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমে গাজীপুর, দিনাজপুর, শেরপুর, জামালপুর, সৈয়দপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের ৬০৩ জনেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী অংশ নেন।
সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশের লক্ষ্য ও গেটস ফাউন্ডেশনের অংশীদারিত্ব
বিশ্বখ্যাত গেটস ফাউন্ডেশনের বিশেষ আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তায় দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের এই ডিজিটাল ঋণ সেবা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিপুল অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে এক অনন্য প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল, যা এই আয়োজনকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং অর্থপূর্ণ করে তোলে। ব্র্যাক ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে, কোনো ধরণের গোপনীয়তা ছাড়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে এবং কোনো কাগজের ব্যবহার ব্যতীত বা কাগজবিহীন পদ্ধতিতে উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
নিচে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ এবং ঋণ সেবার বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| আয়োজক প্রতিষ্ঠান ও সহযোগী | সমাবেশের সুনির্দিষ্ট নাম | মোট জেলা ও সংখ্যা | অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তার সংখ্যা | ঋণের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ |
| ব্র্যাক ব্যাংক এবং গেটস ফাউন্ডেশন | সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ | ৬টি জেলা | ৬০৩ জনেরও বেশি | দ্রুতগতির, স্বচ্ছ এবং কাগজবিহীন ঋণ |
সরাসরি ঋণ বিতরণ প্রদর্শনী ও গ্রাহক মতামত সংগ্রহ
এই সম্মেলনগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ঐতিহাসিক দিকটি ছিল অনুষ্ঠান স্থলেই উপস্থিত উদ্যোক্তাদের সামনে সরাসরি বা লাইভ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সাফল্য’ ঋণের অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিতরণ করা। বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে এই ধরণের তাৎক্ষণিক ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ঘটনা এটিই প্রথম, যা ব্র্যাক ব্যাংকের ই-ঋণ সক্ষমতার গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং পরম দক্ষতাকে সর্বসাধারণের সামনে প্রমাণ করেছে। এই অধিবেশন চলাকালে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সরাসরি তাঁদের মূল্যবান মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে। এই সরাসরি মতামতের মূল লক্ষ্য হলো ঋণের প্রযুক্তিগত দিকগুলো আরও সহজতর করা, সেবার বৈশিষ্ট্যগুলো আরও পরিমার্জিত করা এবং গ্রাহকদের সার্বিক সুবিধা বৃদ্ধি করা।
নিচে ‘সাফল্য’ ই-ঋণ সেবার ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও লক্ষ্যমাত্রার বিবরণ ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| আয়োজিত জেলাসমূহের নাম | ঋণের ধরণ ও প্রযুক্তি | প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য | আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রভাব |
| গাজীপুর, দিনাজপুর, শেরপুর, জামালপুর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী | ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ই-ঋণ | দেশব্যাপী ই-ঋণ সেবার সচেতনতা বৃদ্ধি | প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা |
দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ টেকসই ব্যাংকিং
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। ব্র্যাক ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের এই যৌথ প্রয়াস কেবল ঋণ বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভ্যস্ত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোনো ধরণের কাগজের ব্যবহার ছাড়া বা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন এই আধুনিক ঋণ পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং বা সবুজ ব্যাংকিং ব্যবস্থারও একটি অনন্য উদাহরণ। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সরাসরি প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আগামী দিনগুলোতে ডিজিটাল ঋণের কারিগরি দিকগুলো আরও গ্রাহকবান্ধব করা হবে, যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও তাঁর মুঠোফোনের মাধ্যমে খুব সহজে এবং কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা ছাড়াই ঋণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
