দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনি সহযোগিতা জোরদার করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২৩টি দেশে পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২১টি অনুরোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, জব্দ এবং দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সহজ হয়। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু অর্থ উদ্ধার নয়, বরং ভবিষ্যতে অর্থপাচার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার এ কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মামলায় অর্থপাচারের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, লেনদেন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একাধিক যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে। এসব দলে দুর্নীতি দমন কমিশন নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করছে।
সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার কার্যত কঠিন। তাই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও আইনি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
অগ্রগতির সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ প্রেরণ | ২৩টি দেশ |
| প্রক্রিয়াধীন অনুরোধ | ২১টি |
| আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি | ১টি (১২ সদস্য) |
| অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা | ১১টি |
| গঠিত যৌথ তদন্ত দল | ১১টি |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে কেবল নীতিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গতি বৃদ্ধি এবং দেশীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।
তাদের মতে, অনেক সময় বিদেশি আইনি জটিলতা এবং তথ্য বিনিময়ের ধীরগতির কারণে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে চলমান পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে এবং ভবিষ্যতে অর্থপাচারের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
