হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুই জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক দুই সময়ে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর, আরিছপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং একই গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭)।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুই গ্রামের মাঝামাঝি কবরস্থানের পাশের একটি চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
প্রথম দফা সংঘর্ষ হয় সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে। এতে আরিছপুর, আব্দাফৌজদা ও কাসেরগাঁও গ্রামের মোশাহিদ মেম্বার পক্ষ এবং আদিত্যপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষের লোকজন অংশ নেয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়।
পরে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৮টার দিকে বিষয়টি সমাধানে সালিশের উদ্যোগ নেয়।
তবে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডুবাঐ বাজার এলাকায় আবারও দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সেলু মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নান (৫০) সহ অন্তত ৪০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষে হতাহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | বাহুবল উপজেলা, হবিগঞ্জ |
| ইউনিয়ন | সাতকাপন |
| গ্রামসমূহ | আদিত্যপুর, আরিছপুর, আব্দাফৌজদা |
| নিহত | ২ জন (সেলু মিয়া, হেলাল মিয়া) |
| আহত | অন্তত ৪০ জন |
| সংঘর্ষের সময় | ১৫ জুন, দুপুর ও সন্ধ্যা |
| সংঘর্ষের কারণ | কবরস্থানের পাশের রাস্তা নিয়ে বিরোধ |
| অস্ত্রের ব্যবহার | দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল |
ঘটনার পর পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।
