বাড্ডার চিপস কারখানায় আগুনে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর পূর্ব বাড্ডার একটি চিপস উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই তরুণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কবরস্থান রোড এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা শ্রমিকরা দ্রুত আগুন থেকে রক্ষা পেতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা।

নিহত দুই শ্রমিক হলেন মাহমুদুল হাসান (২৩) এবং মোস্তফা মিয়া (২১)। তারা দুজনই রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে রাজধানীতে এসে তারা চিপস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। মাহমুদুল বড় জম্মাপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে এবং মোস্তফা চর কাজিপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাকিবুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের শিফটে কাজ শেষে প্রায় ১০ জন শ্রমিক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ রাত তিনটার দিকে আগুন লাগার চিৎকারে সবাই জেগে ওঠেন। দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় পুরো কারখানা অন্ধকার হয়ে যায়। সেই সময় মাহমুদুল ও মোস্তফা ভেতরে আটকা পড়ে যান এবং পরে তারা আর বের হতে পারেননি।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোর সোয়া চারটার দিকে বাড্ডা থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এবং শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থাও যথাযথ ছিল না। জরুরি নির্গমন পথ ও সতর্কতামূলক সরঞ্জাম না থাকায় আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিচে নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সজন্মস্থানপেশামৃত্যুর কারণ
মাহমুদুল হাসান২৩ বছরতারাগঞ্জ, রংপুরচিপস কারখানার শ্রমিকঅগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু
মোস্তফা মিয়া২১ বছরতারাগঞ্জ, রংপুরচিপস কারখানার শ্রমিকঅগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলোতে নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।