বরিশালে ইজিবাইকচালক হত্যা মামলায় চারজন গ্রেপ্তার ঘটনায় তদন্ত

বরিশালে ইজিবাইকচালক নাজমুল মোল্লা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে ঘরটি পুড়ে যায় বলে জানা যায়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন নগরীর চন্ডিপুর এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, হরিণাফুলিয়া এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে মিরাজ হোসেন, মিরাজ হোসেনের স্ত্রী কামরুন নাহার এবং মা ফরিদা বেগম।

গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য

নামপিতার নাম/সম্পর্কএলাকাঅবস্থা
সাইফুল ইসলামরুস্তম আলী (পিতা)চন্ডিপুরগ্রেপ্তার
মিরাজ হোসেনইউনুস হাওলাদার (পিতা)হরিণাফুলিয়াগ্রেপ্তার
কামরুন নাহারমিরাজ হোসেনের স্ত্রীহরিণাফুলিয়াগ্রেপ্তার
ফরিদা বেগমমিরাজ হোসেনের মাহরিণাফুলিয়াগ্রেপ্তার

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল উল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে দূরত্বজনিত কারণে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘরটি পুড়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের একটি অংশের উপস্থিতিতে ওই বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে পৃথকভাবে আইনগত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার দুপুরে কালিজিরা নদীর তেমাথা এলাকা থেকে ইজিবাইকচালক নাজমুল মোল্লার (২২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণফুলিয়া-জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে।

ঘটনার পর নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই বুধবার সকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় আরও একজন অভিযুক্ত ইমরান এখনো পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে গ্রেপ্তারকৃতরা এবং তাদের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আইনগত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয় এবং পরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর জানার পর তাদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা পৃথক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।